বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ।। ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিখোঁজ ৩ দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা তুচ্ছ ঘটনায় রণক্ষেত্র ভৈরব, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক বানিয়াচংয়ে ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন জৈন্তাপুর উপজেলা জমিয়তের সভাপতির ইন্তেকাল, কেন্দ্রীয় কমিটির শোক ‘আদর্শবান ও প্রশিক্ষিত কর্মীরাই একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি’ শুক্রবার মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে খুতবা দেবেন যে দুই শায়খ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি হজমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

৭০ হাজার ফেরেশতা জানাজায় এলেন যে সূরার বরকতে!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা ও আয়াতে রয়েছে অপরিসীম ফজিলত। তবে একটি সূরা রয়েছে, যা প্রতিদিন আমল করলে তা জান্নাত লাভের উসিলা হতে পারে। এমনকি হাদিসে বর্ণিত আছে, এই সূরার বরকতে ফেরেশতারাও জানাজায় শরিক হয়েছেন।

কথা হচ্ছে সূরা ইখলাস নিয়ে। ইসলামের প্রাথমিক যুগেই একজন সাহাবীর জীবনে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

হযরত মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল মুজানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইন্তেকাল করলে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগমন করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা, সঙ্গে ছিলেন জিব্রাইল আলাইহিস সালামও। তারা সবাই নবীজির সঙ্গে তার জানাজায় শরিক হন।

নামাজ শেষ হলে নবীজী জিজ্ঞেস করেন, “হে জিব্রাইল, কোন আমলের মাধ্যমে মুয়াবিয়া এই উচ্চ মর্যাদা লাভ করল?” জবাবে জিব্রাইল (আ.) বলেন, “সে সর্বাবস্থায় দাঁড়িয়ে, বসে, হেঁটে, বাহনে সবসময় সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করত।”

আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজী পুনরায় প্রশ্ন করেন, “হে জিব্রাইল, কী এমন আমল করেছিল মুয়াবিয়া?” উত্তরে বলা হয়, “সে সূরা ইখলাসকে ভালোবাসত এবং চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে নিয়মিত এই সূরা তেলাওয়াত করত।”

মুয়াজ ইবনে আনাস জুহানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।”

এ কথা শুনে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেছিলেন, “তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদের অধিকারী হয়ে যাব।” তখন নবীজী বলেন, “আল্লাহ তাআলার দান আরও প্রশস্ত, আরও উৎকৃষ্ট।”

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত, একবার নবীজী কিছু সাহাবীকে যুদ্ধে পাঠান এবং একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে সেই সেনাপতি প্রতিটি নামাজে সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করতেন।

যুদ্ধ শেষে সাহাবীরা নবীজীকে এ বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, “তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো কেন সে এমন করত?” জবাবে ওই সাহাবী বলেন, “এই সূরায় আল্লাহর গুণাবলী বর্ণিত আছে, আমি এ সূরাকে ভালোবাসি।”

তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তাকে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।”

সূরা ইখলাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অসীম। এটি এমন এক সূরা, যা শুধু মুখস্থ করে রাখাই নয়, বরং ভালোবেসে আমল করলেই আল্লাহর ভালোবাসা ও জান্নাতের প্রাসাদ লাভের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জীবনে এই ছোট অথচ গভীর অর্থবহ সূরাটি যেন আমাদের হৃদয়ের অংশ হয়ে ওঠে,এই হোক প্রতিটি মুসলমানের প্রার্থনা।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ