বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা রাজশাহীতে ট্রাক-মাহিন্দ্রা মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ ‘যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে গর্বের বিষয়’ অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র ‘সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে, ২৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি খেলাফত মজলিস ইউকে সাউথ শাখার তরবিয়াহ মাহফিল অনুষ্ঠিত সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আগে যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা ও ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধি


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড, উগ্র ডানপন্থীদের মিছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে একটি মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী সংগঠনগুলোর আয়োজিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। সমাবেশের নেতৃত্ব দেন কট্টরপন্থী কর্মী টমি রবিনসন, যার প্রকৃত নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন।

সমাবেশে তিনি ক্ষমতায় গেলে ‘ইসলাম বন্ধ করে দেওয়ার’ মতো বক্তব্য দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মানবাধিকারকর্মীরা এ ঘটনাকে প্রকাশ্য ইসলামোফোবিয়ার ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে বন্দুক হামলার ঘটনায় তিন মুসলিম নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ, মসজিদের প্রবীণ সদস্য মনসুর কাজিহা এবং উবারচালক নাদির আওয়াদ। ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই হামলার পর যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের মধ্যে ঈদের জামাত, মসজিদ ও বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

একজন তরুণ ব্রিটিশ মুসলিম বলেন, মুসলিমরা যেন সবসময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে বসবাস করছে। তার ভাষায়, ‘যখনই মনে হয় মুসলিমরা সমাজে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই এ ধরনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের এখনো আলাদা চোখে দেখা হয়।’

আরেক মুসলিম তরুণী বলেন, দৃশ্যমান মুসলিম পরিচয়ের কারণে তিনি নিজেকে অনিরাপদ অনুভব করেন। বিশেষ করে মসজিদ বা বড় ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার সময় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে-এর বর্ণবৈষম্যবিষয়ক প্রধান ইলিয়াস নাগদি ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশকে ‘ইসলামোফোবিয়ার জঘন্য প্রদর্শনী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই সমাবেশে ইসলামবিদ্বেষী নাটকীয় পরিবেশনা ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন-এর সহকারী মহাসচিব ড. নাওমি গ্রিন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামোফোবিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণাবাদী বক্তব্য ও উগ্র ডানপন্থী প্রচারণা তরুণদের প্রভাবিত করছে। ফলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়ভীতি বাড়ছে।

মুসলিম এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (MEND)-এর প্রধান নির্বাহী লিনসে টেইলর জানান, অনেক মসজিদ ইতোমধ্যে সিসিটিভি, নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা জোরদার করেছে। তিনি মুসলিমদের দলবদ্ধভাবে মসজিদে যাওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য।

সংগঠনগুলোর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ