বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ।। ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: কওমি শিক্ষাধারার উন্নয়নে বরাদ্দ হোক ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিখোঁজ ৩ দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা তুচ্ছ ঘটনায় রণক্ষেত্র ভৈরব, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক বানিয়াচংয়ে ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন জৈন্তাপুর উপজেলা জমিয়তের সভাপতির ইন্তেকাল, কেন্দ্রীয় কমিটির শোক ‘আদর্শবান ও প্রশিক্ষিত কর্মীরাই একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি’ শুক্রবার মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে খুতবা দেবেন যে দুই শায়খ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষার অধ্যাদেশ জারি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান ও তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই অধ্যাদেশ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

এবং অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকলে তা পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একইসাথে, ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা দায়েরও বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে-কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন, সেহেতু এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের ওপর এটি প্রাধান্য পাবে।

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ