শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান হেফাজতের রাতে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন আমিরে মজলিস হাফেজাদের যথাযথ পরিচর্যায় গড়ে তুলতে হবে: মাওলানা যাইনুল আবিদীন আস-সুন্নাহর সহায়তায় মেহেদীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌদিতে আটকে ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী, বিশেষ ফ্লাইট চাইলেন ওয়াইসি হাটহাজারীতে তিন দিনের তাফসির মাহফিল সফল করার আহ্বান আল-আমিন সংস্থার ৯২ বছর বয়সেও নিয়মিত মসজিদে যান বসনিয়ার বৃদ্ধ আসামে মুসলিম উচ্ছেদ ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় খেলাফত মজলিসের নিন্দা ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও ব্যর্থতায় সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ: গাজী আতাউর রহমান ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো আরও ৪ জনের

মহররম-আশুরার শিক্ষা ও ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল আমীন বিন সাবের আলী

কালের প্রবাহ কখনো থেমে থাকে না। সদা সচল সময়ের স্রোতধারা। বর্তমান বিলীন হয়ে যায় অতীতের বুকে। ভবিষ্যত ঠাঁই নেয় বর্তমানের প্রাঙ্গণে। আগমন ঘটে নতুনের, প্রস্থান ঘটে পুরানের। এটাই চরম বাস্তবতা। জাগতিক এই নিয়মে কালের রঙ্গীন পাখায় ভর করে প্রতি বছর আমাদের দ্বারপ্রান্তে হাজির হয় ঐতিহাসিক ও অসংখ্য ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত মাস ‘মহররমুল হারাম’। আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এটি, এবং এবারের হিজরী সাল ১৪৪৭।

মহররমের ইতিহাস
মহররম একটি এমন মাস, যা একদিকে আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য অনুগ্রহ ও দানে পরিপূর্ণ, আবার অন্যদিকে শোক ও বিষাদে সিক্ত একটি মাস। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ মাসটি ছিল সম্মানিত ও পবিত্র—এমনকি মক্কার কাফের-কুরাইশরা পর্যন্ত এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত, যা তার পবিত্রতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে, এ মাসের দশ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল কিছু উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা। তার মধ্যে অন্যতম হলো হযরত মুসা (আ.)-এর লোহিত সাগর পার হওয়া এবং ফেরাউন বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি লাভের ঘটনা, যা সুপ্রসিদ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত।

এছাড়া আরো কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যেমন—মহররমের দশ তারিখে হযরত আদম (আ.)-এর তাওবা কবুল হওয়া, হযরত নুহ (আ.)-এর কিশতী জুদী পাহাড়ে নোঙর করা, হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর নমরূদ কর্তৃক অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া, হযরত ইসরাফীল (আ.)-এর শিঙ্গার ফুৎকারে কেয়ামত সংঘটিত হওয়া, ইত্যাদি। তবে, এসব ঘটনার মধ্যে কিছু সহীহ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয় (ইসলাহী খুতুবাত, মুফতী তাকী উসমানী)।

এছাড়া, হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম ও আসমানে উঠা, হযরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ, হযরত আইয়ুব (আ.)-এর দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ—এইসব ঘটনাও মহররম মাসের তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের অংশ।

এ মাসের ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ এবং বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে ৬১ হিজরীতে, যখন ইরাকের কারবালা উপকণ্ঠে সংঘটিত হয়েছিল এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। এটি ইতিহাসে "কারবালা ট্রাজেডি" হিসেবে পরিচিত। কুফাবাসীদের প্রতারণার সত্ত্বেও, হযরত হুসাইন (রা.) তার কয়েকজন অনুগামী সহ জিহাদের তীব্র মনোবল নিয়ে ইবনে যিয়াদের বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।

একটি বিভ্রান্তির নিরসন
অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, মহররমের দশ তারিখ তথা আশুরার দিন ফযিলতপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ‘কারবালা ট্রাজেডি’-এর কারণে। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আশ্চর্যজনকভাবে, কিছু ইতিহাসবিদও তাদের বইয়ের মধ্যে এই ভুল ধারণাকে সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভুল।

মহররমের দশ তারিখে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল, যা আগে থেকেই এই দিনের পবিত্রতা ও ফযিলতকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। অতএব, আশুরার দিনে রোযা রাখার হুকুম ‘কারবালা ট্রাজেডি’-এর কারণে নয়, বরং এর আগে থেকেই মহররমের দিনের মর্যাদা ছিল। তবে হ্যাঁ, হযরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ওই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে, এবং এটি আমাদের হৃদয়ে আরও বেশি প্রভাব ফেলেছে।

তাদের কথাও সঠিক নয় যারা মনে করেন যে, ‘কারবালা ট্রাজেডি’-এর কারণে আশুরার দিন রোযা রাখার হুকুম দেয়া হয়েছে।

কাজলা, ঢাকা

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ