বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা রাজশাহীতে ট্রাক-মাহিন্দ্রা মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ ‘যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে গর্বের বিষয়’ অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র ‘সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে’

কওমি ছাত্রদের কেন একক দল বা নেতার অনুসরণ করতে হবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইফতেখার জামিল

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা একেকজন একেক দলের অনুসারী। আলিয়া মাদরাসাও তাই। যদি তাই হয়, তাহলে কওমি মাদরাসার ছাত্রদেরকে কেন কোনো একক দল/নেতার ‘অনুসরণ’ করতে হবে? আমার দেশ আজকে ‘কওমি মাদরাসার’ অভ্যন্তরীণ অনৈক্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদকও আমার পরিচিত, তবে প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি একই ধাচের প্রতিবেদন আলিয়া মাদরাসা বা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে করবেন? করবেন না। তাহলে তারা কেন কওমি মাদরাসাকে একটা একক ‘রাজনৈতিক বর্গ’ আকারে কল্পনা করতে চান?

জামিয়াতুল আযহারের শিক্ষকরাও একেকজন একেক রাজনীতিতে অভ্যস্ত। একটা শিক্ষাধারা কখনোই একক রাজনৈতিক নেতৃত্ব-দলান্ধতা চাপিয়ে দিতে পারে না। চাপিয়ে দিলে সেটা আর শিক্ষাধারা হিসেবে ফাংশন করে না। কওমি মাদরাসা এখনো বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট প্রডিউস করতে পারে—কারণ তারা এখনো একাডেমিক ইন্টিগ্রিটিটা ধরে রেখেছে, যদিও অনেক মাদরাসার অবস্থাই ভালো নয়।

গ্রীকরা কল্পনা করত দার্শনিকরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আধুনিক জামানায় ইসলামি রাজনীতিবিদরা কল্পনা করতে শুরু করলেন ‘ধর্মীয় স্কলাররা’ রাষ্ট্র চালাবে। অথচ ইসলামি ইতিহাসে, খেলাফতে রাশেদার পরে কখনোই ‘আলেমরা’ রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি। শুধু মেডিকেল দিয়ে যেমন রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না, কেবল মাদরাসা দিয়েও রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না। মাদরাসার জনগোষ্ঠী জনসংখ্যার আট-দশ শতাংশ। আপনি কেন নব্বই ভাগ মুসলমানের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ ছেড়ে দিয়ে নিজেকে ‘হুজুর শ্রেণীর’ নেতা বানাবেন—কোন যুক্তিতে? যে ‘হুজুর নয়, সেও তো বাংলাদেশি, মুসলমান।

বৃটিশ খেদানোর সময় আশরাফ আলী থানবী বলেছিলেন, আগামীর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে মোল্লা ও মিস্টারের মাধ্যমে। তকি ওসমানিদের প্রতি আপনাদের যতই সমালোচনা থাকুক, তারা কিন্তু নিজেদের মত রাষ্ট্রকে গুছিয়ে নিয়েছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের হাজারটা সমস্যা থাকতে পারে, তবে তারা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মকে সমন্বয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এই সফলতাগুলো কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্বের মাধ্যমে আসেনি। তকি ওসমানিদের মতো মেধাবী আলেমরা ধর্ম বনাম রাষ্ট্র তর্কের বিবাদটা কমিয়ে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

আপনারাই ঠিক করেন, আপনারা কি দশ শতাংশ ‘গরিব হুজুরের’ শ্রেণিগত প্রতিনিধিত্ব করবেন, নাকি নব্বই ভাগ মুসলমানের ‘ধর্মীয় সমস্যা’ নিয়ে ভাববেন?

লেখক: তরুণ আলেম ও বিশ্লেষক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ