সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

নির্বাচনে হার মানেই প্রাসঙ্গিকতা হারানো নয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

নির্বাচন ‘শ্যাষে’ সরকার তার নির্বাচনী নানা ওয়াদা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলো প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি। তবে সংসদে একাধিক ইসলামি দলের প্রতিনিধি রয়েছে, এটাও কম নয়। রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে, এটাও নির্বাচনের লাভ। তবে সরকারে ইসলামি দলগুলোর অংশীদারিত্ব থাকলে ভালো লাগত। জানি না, সামনে কী হবে।

বলা চলে এই নির্বাচনটা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, আবেগঘন। ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে সুযোগ ছিল আরও ভালো কিছু করার, কিন্তু যা হয়নি সেটা নিয়ে বারবার কথা বলার যৌক্তিকতা নেই। আমি কথা বলতে চাই সামনের কিছু বিষয় নিয়ে।

প্রথম কথা, নির্বাচনে জয় নিঃসন্দেহে গৌরবের। দীর্ঘ প্রচারণা, পরিশ্রম, সমর্থকদের অক্লান্ত শ্রম- সব মিলিয়ে বিজয়ের মুহূর্তটি স্বস্তি ও আনন্দে ভরা থাকে। পরাজয়ের ফলে পরিবেশটা এর উল্টো হয়ে যায়। আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। সেখান থেকে বিভাজনের নানা বীজ গজানো শুরু করে। অবিশ্বাসের কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয়, দলে ভাঙন ধরে।

কারণ মানুষ সাধারণত ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে পছন্দ করে, কেউ পরাজিতের সঙ্গে থাকতে চায় না। তার পরও সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল থাকে। এই জায়গাতেই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিতে হয় রাজনীতিবিদদের।

পরিপক্কতার অর্থ বিরোধীদের একাংশ সংসদে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করবে গণতন্ত্রের রীতিতে, সংসদীয় ভাষায়। আরেক অংশ রাজপথে টেনে নেবে সরকারের কাজ-কর্মকে। সমালোচনা করবে, প্রশ্ন  উত্থাপন করবে। প্রয়োজনে আন্দোলন-সংগ্রাম করবে। এক কথায়, সংসদে ও রাজপথে সরকারকে ব্যস্ত রাখবে। সেই সঙ্গে তার প্রস্তুতি নেবে সামনের জন্য।

কিন্তু কেমন যেন মনে হচ্ছে, আমাদের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পর মিইয়ে গেছে। হতাশা গ্রাস করেছে তৃণমূলের মাঝে। মিডিয়াতে নেই, আলাপ-আলোচনায় নেই। যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর। মনে রাখবেন, গণতন্ত্রে বিরোধী কণ্ঠও সমান গুরুত্বপূর্ণ; তাই হার মানেই প্রাসঙ্গিকতা হারানো নয়।

নির্বাচনে পরাজয় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাসে বহু নেতা প্রথম কয়েকটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েও পরবর্তীতে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। তাই ফলাফল মেনে নেওয়া এবং শান্ত, মর্যাদাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেওয়া একধরনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।

এখন দরকার দলে আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। দলগুলো নিশ্চয়ই তাদের পরিকল্পনা কেন সফল হলো না, মানুষ কেন তাদের নির্বাচিত করলো না- এর কারণ অনুসন্ধান করবে। গৃহীত পরিকল্পনায় কোনো ভুল থাকলে তা শুধরে নেবে। নতুন উদ্যামে রাজনীতির মাঠে কাজ শুরু করবে। ইসলামি দলগুলোর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী তাকিয়ে আছে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি।

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ