|| ইফতেখার জামিল ||
ক’দিন আগে একটা হিজাবি মেয়ে ড্রাম বাজাচ্ছে এমন ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়, এ নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। লোকজন একে ‘ধর্মীয় অবনতি-উগ্রতা’ হিসেবে পাঠ করতে শুরু করেন। ধর্মীয় লোকজন বলতে থাকেন, জাতির কি অধঃপতন। বিপরীত দিকের লোকজন বলতে শুরু করেন, সামান্য ড্রাম বাজিয়েছে বলে আপনারা একটা মেয়ের সাথে এমন আচরণ করবেন? আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনাকে প্রথাগত ধর্মীয় লেন্স দিয়ে দেখতেই আগ্রহী না।
সমাজে কিছু না কিছু Inconformity/গুনাহের ঘটনা থাকবেই। মানুষ স্বভাবজাতভাবে/নিজের অজান্তে এসবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে, এটাও স্বাভাবিক। মুশকিলটা আমার মতে প্রযুক্তিগত—আপনি ব্যক্তিগত একটা ইভেন্টকে অনলাইনে আসতে দিতে পারেন না। কোন কারণে অনলাইনে চলে আসলে সেটা দ্রুত রেগুলেট করতে হবে, রিচ কমাতে হবে। ধরেন, কোন পাড়া/মহল্লায় এমন বিতর্কের ঘটনাটা ঘটলো। মুরুব্বিরা এক-দুইটা ধমক দিয়ে বলবে, সামনে আর করিস না। মুরুব্বিদের মধ্যে খানিকটা মায়াও কাজ করবে, কারণ দিনশেষে মেয়েটা তাদেরই সন্তান, মেয়ের মধ্যেও মুরুব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা কীজ করবে—কেননা তারা তার আপনজন।
লিবারেল লোকজন ভাবেন, সবাই উদার হয়ে যাক, যার যা ইচ্ছা করুক, অসুবিধা কোথায়? বাস্তবতা হল, এসব তত্ত্বকথায় সমাজ চলে না, সমাজের মধ্যে Inconformity প্রতি খানিকটা বায়াজ থাকবেই—এটা অভ্যাস-অভ্যস্ততার বিষয়। ধর্মীয় লোকজন তাদের প্রতিক্রিয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব-দায়বদ্ধতা ভাবলেও তারা ভুলে যান, সমাজে এসব ঘটনা থাকবেই-এগুলো থেকে ম্যাক্রোলেভেলে কনক্লুশন টানা যাবে না, প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না—এটা নিছকই মুরুব্বি-অভিভাবকদের দায়িত্ব। ধর্মীয় জনতা যাকে ধর্মীয় দায়িত্ব ভাবছে, সেটা ধর্মীয় হায়ারারকি নষ্ট করতে ভূমিকা রাখছে, তারা সেটা ভুলে যাচ্ছেন। যারা খারাপ কথা বলছে, তাদের বিষয়টা বাদই দিলাম।
আমাদেরকে বুঝতে আমাদের সমাজ-ধর্মীয় হায়ারারকি এত লার্জ ডেটা ম্যানেজ করতে প্রস্তুত নয়। আমরা এমন আলগরিদমসেটের মুখোমুখি, যেগুলো আমাদের সমাজ-ভেলুজের প্রতি লক্ষ্য রেখে তৈরি হয়নি। যেগুলো ‘ধর্মীয় টপিক’ হবারই কথা ছিলে না, সেগুলো ধর্মীয় বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। এক্সপার্টরা কিছু বলার আগেই দেখেন, ইতিমধ্যে তার/তাদের হয়ে ফতোয়া দেওয়া হয়ে গেছে—তারা পড়ে যান বিভ্রমে, তারা কাকে কীভাবে ডিফেন্ড করবেন, কাকে কীভাবে ফ্রেম করবেন? মূল ঘটনা যথেষ্ট ছোট, অথচ পার্টিসিপেন্ট হাজার হাজার, শত শত ভেরিয়েবলস। দোষ করছে অ্যালগরিদম, আমরা হালাল-হারামের মাইক্রোলেন্স দিয়ে ম্যাক্রে ফেনোমেনা ডিল করতে বাধ্য হচ্ছি। ধর্মীয় স্কলারশিপের জায়গা থেকে এটা রীতিমতো ডিজাস্টার।
লেখক: চিন্তক ও অ্যাকটিভিস্ট
প্রতিনিধি/আইও