শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ।। ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কওমি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা পাবেন আধুনিক অস্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও মুসলিম রাজনীতি মক্কা-মদিনায় জায়গা কিনতে চান? তথ্যগুলো আপনার জন্য ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঝড় তুললেন মুসলিম বিধায়ক চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আফ্রিকার ৩ দেশের নাগরিকদের ওমরাহ ভিসা দিচ্ছে না সৌদি কওমি মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র, এখনই সতর্ক হওয়ার সময় হাফেজ নাঈমের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে উদ্বেগ, পুনর্বিচারের দাবি জমিয়তের

কওমি মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র, এখনই সতর্ক হওয়ার সময়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ||

চরম উদ্বেগ, ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- কওমি শিক্ষা ও কওমি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো বাধা বা প্রতিরোধ ছাড়াই অনায়াসে একের পর এক অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনৈতিকতার অভিযোগ তুলে এ শ্রেণিকে টার্গেট করা বাতিল ফিরকা ও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের লোকদের জন্য যেন এখন সবচেয়ে সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত কাজে পরিণত হয়েছে।

কোথাও কোনো অভিযোগ উঠলেই তদন্ত, যাচাই কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে হামলে পড়া, মারধর করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করে মাদ্রাসাবিরোধী জনমত তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। নানা মিডিয়ার একপাক্ষিক প্রচারণার প্রভাবে সাধারণ মানুষের একটি অংশও ন্যায়-অন্যায় যাচাই না করেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

অথচ অভিযোগ সত্যও হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করে জনতার বিচারের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুঃখজনকভাবে, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অনেকেই সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের অপেক্ষা না করে নীরবতা অবলম্বন করেন। স্থানীয় আলেম-উলামাদের অনেককেও সামনে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। অথচ অভিযোগটি মিথ্যাও হতে পারে। আর মিথ্যা অভিযোগের শিকার ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক ও দ্বীনি দায়িত্ব। যদি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, যথাযথ বিচারের দাবিও সমানভাবে উচ্চারিত হওয়া উচিত।

বিশেষ করে ছোট ও প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোর সামাজিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় তারা সহজেই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারে। তাই থানা ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল আলেমদের প্রতি আহ্বান—সতর্ক হোন, সক্রিয় হোন এবং সহযোগিতার হাত প্রসারিত করুন। এলাকার প্রত্যেকটি মাদ্রাসার সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলুন। একইভাবে, ছোট ও প্রাইভেট মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদেরও স্থানীয় আলেম ও দায়িত্বশীল মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা উচিত।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হয়, এখানে কেবল অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিই মুখ্য নয়; বরং এর আড়ালে ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও সক্রিয় রয়েছে।

লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ