নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদরাসায় শিশু নিপীড়নসহ নানা অনাচার রোধে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসায় বিভিন্ন অনাচারের যেসব ঘটনা সামনে আসে, তার অধিকাংশই ভুঁইফোড় ও মানহীন বেসরকারি মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এসব প্রতিষ্ঠানও মাদরাসা হওয়ায় তাদের অপকর্মের নেতিবাচক প্রভাব পুরো মাদরাসাব্যবস্থার ওপর পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি জানান, মাদরাসায় এ ধরনের অনাচার প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাবনা তৈরি করে অনেক আগেই মাদরাসার অভিভাবকতুল্য ৩০ জনের বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রস্তাবনাটি নিজের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাচারের বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। তবে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কিংবা কোনো পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তাঁর দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় লেখা ও বক্তব্যের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি এবং দাবি জানানো ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকলে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন বলেও জানান তিনি।
আবাসিক মাদরাসাগুলোকে দেশের লাখ লাখ এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি ইলমের দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা এবং মাদরাসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্ণধার ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সর্বশক্তি দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসে এর দায় তাঁদেরই বহন করতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানে অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষার চেষ্টা করা কিংবা সমস্যার সমাধান না করে সত্য আড়াল করা হলে তা মাদরাসাব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের গোপনীয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
তবে অনাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। টঙ্গীর একটি ঘটনায় অপরাধ প্রমাণের আগেই এক মাদরাসাশিক্ষককে বিচার করে ফেলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ওই শিক্ষক যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন, তা কি অভিযোগকারী বা আগেই বিচার করে ফেলা ব্যক্তি পুষিয়ে দিতে পারবেন?
তিনি বলেন, অতীতেও এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। তাই সব ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি।
ধর্ম অবমাননাসহ কোনো ইস্যুতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটাই ইসলামের নির্দেশনা। এ বিষয়ে তিনি আগেও বহুবার কথা বলেছেন।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি মাদরাসার অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি ক্ষণিকের ক্রোধে যেন কারও অপূরণীয় ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এমএম/