আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র মক্কা মুকাররমার মসজিদে হারাম এবং মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদে নববীর জুমার খুতবায় মুসলমানদের ঈমানের ওপর জীবন শেষ করার চেষ্টা, আল্লাহভীতি, ইস্তিকামত এবং তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের আদর্শে গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১০ সফর ১৪৪৮ হিজরি) দুই পবিত্র মসজিদে প্রদত্ত খুতবায় খতিবরা জীবনের প্রকৃত সফলতা, সন্তানের সঠিক লালন-পালন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মসজিদে হারামে ঈমানের ওপর মৃত্যুর গুরুত্ব
মসজিদে হারামে জুমার খুতবা প্রদান করেন শায়খ ড. বান্দর বিন আবদুল আজিজ বালিলা। তিনি বলেন, একজন বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো ইসলামের ওপর জীবন শেষ করা এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করার তাওফিক লাভ করা।
তিনি আরও বলেন, এ মর্যাদা অর্জনের সর্বোত্তম উপায় হলো আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইস্তিকামত বা দৃঢ়তা বজায় রাখা।
খতিব বলেন, যে ব্যক্তি নির্জন অবস্থাতেও আল্লাহর উপস্থিতি ও নজরদারির অনুভূতি নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে এবং তাঁকে ভয় করে, আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর সময় তাকে নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও কল্যাণ দান করেন।
মসজিদে নববীতে তরুণ প্রজন্ম নিয়ে নসিহত
মসজিদে নববীর জুমার খুতবা প্রদান করেন শায়খ ড. আবদুল মহসিন বিন মোহাম্মদ আল কাসিম। তিনি সন্তানদের সুশিক্ষা, মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ এবং নবী করিম (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সন্তান হলো মা-বাবার হৃদয়ের প্রশান্তি ও জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। উত্তম চরিত্র, সদাচরণ এবং নেক আমলের মাধ্যমে সন্তানেরাই মা-বাবার সম্মান ও স্মৃতিকে সমাজে জীবন্ত রাখে।
খতিব আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশু ও তরুণদের সঙ্গে অত্যন্ত স্নেহ, মমতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে আচরণ করতেন। তিনি তাদের পাশে বসতেন, খোঁজখবর নিতেন, দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দিতেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ও সাহস জাগিয়ে তুলতেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.)-এর এই সুশিক্ষা ও পরিচর্যার ফলেই ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম গড়ে উঠেছিল। তাই বর্তমান সময়েও সন্তানদের প্রকৃত কল্যাণ কামনা করলে মা-বাবাকে নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ ও হেদায়াত অনুসারে তাদের লালন-পালন করতে হবে।
খুতবায় মুসলমানদের আল্লাহভীতি, ঈমানের ওপর অবিচল থাকা এবং পরিবার ও নতুন প্রজন্মকে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এসএইচ/