নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যৌন নিপীড়নের কয়েকটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কয়েকটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে কাঠামোগত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ব্রাহ্মণ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকা এবং দেশে ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রাখার কারণে কওমি মাদরাসা ‘ঘৃণাজীবী সেক্যুলার প্রগতিশীলদের’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসার জমি দখলের উদ্দেশে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগও আনা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের আগেই কিছু ক্ষেত্রে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তবে একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মাদরাসা—যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, ওলামায়ে কেরাম সবসময় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তারা দেশের ছোট-বড় সব কওমি মাদরাসার পরিচালকদের শিক্ষার মান, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষাংশে তারা বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত হোক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
আইও/