বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ’ ‘১২ অক্টোবরের মধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক ডেঙ্গু সংক্রমণের হার জানা যাবে’ কাম্য কুরআনি বিধি ঢাবিতে নিকাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজকে বহিষ্কারের দাবি ছাত্র জমিয়তের ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তিন ঘণ্টার ব্যবধানে জাপানে জোড়া ভূমিকম্প জবিতে ‘নূরুস সীরাহ্’ ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার মুহতামিমের জানাজায় লাখো মুসল্লি চলছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ন্যাশনাল ওলামা সামিট

ঢাবিতে নিকাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজকে বহিষ্কারের দাবি ছাত্র জমিয়তের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কটূক্তি এবং তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী ও সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির বলেন, একজন শিক্ষার্থী তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলনের অংশ হিসেবে নিকাব পরিধান করলে সেটিকে কেন্দ্র করে তাকে অপমান, হেয় বা শ্রেণিকক্ষে বিব্রত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রমাণ ছাড়া ‘সন্ত্রাসী’ বা উগ্রপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।

তারা বলেন, ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক সহপাঠীকে সামনে না বসতে এবং পেছনে গিয়ে বসতে বলা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার সঙ্গে শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ করেন বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্র জমিয়তের নেতারা বলেন, এসব অভিযোগ সত্য হলে তা একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও শিক্ষার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাক নিয়ে তাকে হেয় করার জায়গা হতে পারে না। মতপার্থক্য থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

তারা আরও বলেন, অভিযোগটি একতরফাভাবে গ্রহণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গুরুতর অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় পোশাক পরিধানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য, অপমান বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে কোনো ঘটনা নিয়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা শিক্ষার সুস্থ পরিবেশের অন্যতম শর্ত। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ