বিদেশি মদদপুষ্ট সাম্প্রতিক দাঙ্গা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার ইরানজুড়ে বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশের রাজপথে নেমে সর্বস্তরের ইরানি নাগরিকরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তেহরানে মূল কর্মসূচি শুরু হলেও অনেক প্রদেশে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ মিছিলে যোগ দেন। দেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করতে শত্রুপক্ষ যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, এই বিশাল জনসমাগম তারই দাঁতভাঙা জবাব বলে অভিহিত করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
গত মাসে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে সাধারণ ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরু করলেও পরবর্তীতে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। সরকারি ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি উস্কানিতে তাদের মদদপুষ্ট ফার্সি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্ররোচনায় এই বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে নাশকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে অভিযোগগুলো যৌক্তিক। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল রপ্তানির ওপর ওয়াশিংটনের অন্যায্য কড়াকড়ির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। শত্রু পক্ষ এই দুর্দশাকে পুঁজি করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাঙ্গাকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। একইসাথে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যে মোসাদের সংশ্লিষ্টতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শুক্রবার এক ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই দাঙ্গাকারীদের সামনে ইরান নতি স্বীকার করবে না। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক জিনিস নয়। তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি এসব নাশকতাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সোমবারের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ তাদের নেতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানান, তারা কোনোভাবেই বিদেশি অপশক্তিকে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেবেন না।
তেহরানে বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ আলী আব্বাসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং আমেরিকার নোংরা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে রাজপথে এসেছেন। ফাতেমা নামে আরেকজন বিক্ষোভকারী জানান, অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও তারা চান এর সমাধান দেশের অভ্যন্তরীণভাবেই হোক। বাইরের কোনো দেশ বা যারা বছরের পর বছর ইরানিদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা নির্দেশনা তারা মেনে নেবেন না।
বিচার বিভাগও এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, রক্তপাত ও নাশকতায় জড়িত বিদেশি চরদের বিরুদ্ধে কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না।
সূত্র: প্রেস টিভি
আরএইচ/