সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লাবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। 

আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের জলসীমা ছেড়ে যাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা করার অভিযোগে হরমুজ প্রণালির জাস্ক দ্বীপের কাছে ওই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সরাসরি যুদ্ধজাহাজটিতে আঘাত হেনেছে।

হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র আজ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই ইরানের এই হামলার খবর এলো। এই ঘটনাটি এই অঞ্চলে উত্তেজনার এক উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আভাস দিচ্ছে, যা সম্ভবত তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করবে এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

এদিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক এক্স বার্তায় জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন নৌযানে হামলা হয়নি। মার্কিন বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে সমর্থন করছে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে।” 

সেন্টকম আরও বলছে, তারা ১৫ হাজার সামরিক কর্মী, ১০০টিরও বেশি স্থল ও নৌ-ভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন দিয়ে এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।

এরআগে রোববার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোর নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’।

এমন উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মূলত সেই সব মানুষ, কোম্পানি ও দেশকে মুক্ত করতে জাহাজ চলাচলের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেসব দেশ কোনো অপরাধ করেনি। তারা পরিস্থিতির শিকার।’

ট্রাম্প বলেন, জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের করে আনা একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকেও একটি ‘সদয় আচরণ’ হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, অনেক জাহাজে ইতোমধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর কাজে কেউ বাধা দিলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে ইরান–এর সঙ্গে ‘খুব ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার আশা, এই আলোচনা সবার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন।

সূত্র: আলজাজিরা 

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ