ভারতের আসাম ও কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তাদের জোটের মুসলিম প্রার্থীরা ৮০ শতাংশের বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুসলিম ভোটের একত্রীকরণ এবং সংখ্যালঘু রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে কংগ্রেস ২০ জন মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮ জনই জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে দলটির ৭৯ জন অমুসলিম প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজন বিজয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মুসলিম ভোটারদের বড় অংশের কংগ্রেসের পক্ষে একতাবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।
আসামে বিজেপি ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় ৮২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করলেও বিরোধী শিবিরে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কংগ্রেস জোটের শরিক রাইজর দলের একজন মুসলিম প্রার্থীও নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে কেরালার ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় মোট ৩৫ জন মুসলিম এমএলএ নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) জোটের। কংগ্রেসের ৮ জন মুসলিম এমএলএর পাশাপাশি শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ২২ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিম অধ্যুষিত আসনগুলোতে কংগ্রেসের মুসলিম প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম ভোটের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে গিয়ে কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকেছে, যার ফলে বিজেপি হিন্দু ভোটের বড় অংশ একীভূত করতে সক্ষম হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটব্যাংকের প্রভাব এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
আইও/