সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

ব্রিটিশ বাংলাদেশি মুসলিমদের প্রশংসা দ্য ইকোনমিস্টের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপে মুসলিম অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হওয়া নিয়ে প্রচলিত নানা আশঙ্কার বিপরীতে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত সাফল্যকে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সাময়িকীটির মতে, মুসলিম অভিবাসীদের বড় অংশ যে দেশে বসতি গড়েছেন, সেখানেই নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগ্রহী।

১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য ইকোনমিস্টের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ইউরোপে ইসলাম নিয়ে সত্য ও মিথ্যা’। এতে বলা হয়েছে, ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো গুরুতর হুমকি নয়। তবে ইসলামপন্থি মতাদর্শ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষকে আলাদা দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছে সাময়িকীটি।

মুসলিম অভিবাসীরা ইউরোপীয় সমাজে ব্যাপকভাবে একীভূত হতে ব্যর্থ—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত অগ্রগতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে দ্য ইকোনমিস্ট।

সাময়িকীটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ব্রিটেনে স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। একই ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের এই সাফল্য মুসলিম অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এর মাধ্যমে মুসলিম অভিবাসীদের নতুন প্রজন্ম নিজেদের বসবাসের দেশের মূলধারার সমাজে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও ফুটে ওঠে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী যে দেশে বসতি গড়েছেন, সেখানেই নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান। তারা সাধারণত নিজেদের পূর্বপুরুষের সমাজকে হুবহু পুনর্গঠন করতে চান না।

তবে মুসলিমদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কিছু দিক নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সাময়িকীটি। দ্য ইকোনমিস্টের জন্য পরিচালিত এক জরিপে ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম সমকামিতাকে ভুল বলে মনে করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ৩৫ বছরের কম বয়সী মুসলিমদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অপমানের ঘটনায় সহিংসতা ন্যায্য হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার ২৫ শতাংশ।

তবে এসব দৃষ্টিভঙ্গিকে ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে ‘জনমিতিক হুমকি’ হিসেবে দেখার সঙ্গে এক করে না দেখার সতর্কতাও দিয়েছে দ্য ইকোনমিস্ট।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী ও ইসলামবিরোধী রাজনীতি জোরদার হচ্ছে। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সে জনসমক্ষে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার মেরিন ল্য পেনের প্রস্তাবের প্রতি ৬০ শতাংশ ফরাসি ভোটারের সমর্থনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত অগ্রগতির পরিসংখ্যানটি ইউরোপীয় সমাজে মুসলিম অভিবাসীদের একীভূত হওয়ার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে এটি এমন একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, যা মুসলিম অভিবাসীরা ইউরোপীয় সমাজে একীভূত হতে চান না—এমন সাধারণ ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ