আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
এক.
আমি যেন নির্জন বনের হরিণ—
বিষণ্ণতার বাঘ,
আমারে বানায়তে চায় তার খানা।
দিন শেষে আমারে বাঁচাইয়া দেয়
আয়াতের এই চেরাগ—
‘লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মা’আনা’।
দুই.
আমি কত নিমকহারাম!
নেয়ামতের পর্বতে বসেও যেন
শুধু পাপ কামাই আর পাপ জমাই।
মাবুদ, সবকিছু মুছে দেয় নিমিষেই—
‘রাব্বানা, রাব্বানা’ ডাকতেই।
তিন.
এক ফোঁটা চোখের পানি—
তা দিয়ে,
গোসল হবে না জানি,
অজুও না, হবে না অতখানি।
হবে না মরুময় বুকে তৃষ্ণা
নিবারণ—কোনো দিনই।
ইয়া নাফসি!
তুমি জানো কি?
আল্লাহর ভয়ে কাঁদে যে চোখ,
এক ফোঁটা তার পানি
নেভাতে পারে পুরোদস্তুর
জাহান্নামের সমস্ত আগুনই!
ইয়া নাফসি!
কাঁদো তুমি,
প্রকম্পিত হোক অন্তর,
যেভাবে কেঁপে ওঠে, ধসে পড়ে
আল্লাহর ভয়ে—পাথর।
চার.
দুঃখ আমার কাছে এলে—
সহাস্যে পাঠ করি— ‘ইন্না মা’আল ’উসরি ইউসরা’।
অতঃপর,
সুখ আমার কাছে পৌঁছায়—
ঐশ্বরিক সৌন্দর্য এবং নির্মলতায়।
পাঁচ.
প্রবাহিত জল আর বহমান হাওয়া বলে,
তাদের কোনো ঘরবাড়ি নাই;
তারা থাকে সবসময় পথেঘাটে।
পৃথিবীর এ বিশাল সরাইখানায়—
আমিও যে মুসাফির, কত সহজে ভুলে যাই!
ইয়া নাফসি!
তোমার কি মনে নাই মৃত্যুর চিরন্তন আয়াত?
নিশ্চয়ই, ফুরিয়ে যাবে তোমারও রওশন হায়াত।
আইও/