বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


দেড় বছর পর ছেলের সন্ধান পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললেন ‘ফিলিস্তিনি মা’


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইসলায়েলি পৈশাচিক গণহত্যা চলাকালে গাজায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক ঈদ নাঈল আবু শারকে। তিনি জীবিত অবস্থায় ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি। এত দিন তাঁর পরিবার মনে করেছিল, ঈদ মারা গেছেন। মরদেহ খুঁজতে গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে ছুটে বেড়িয়েছেন স্বজনেরা। এমনকি শোকপালনের জন্য তাঁবুও খাটানো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এক আইনজীবীর ফোনকলে জানা যায়, ঈদ জীবিত আছেন এবং বর্তমানে ইসরায়েলের ওফার কারাগারে আটক রয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদেনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাজের সন্ধানে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নেটজারিম করিডরের কাছে গিয়ে নিখোঁজ হন ঈদ। এলাকাটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ বা ‘মৃত্যুর কেন্দ্র’ নামেও পরিচিত। এখানে বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ঈদের বাবা নাঈল আবু শার জানান, ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে তিনি প্রতিদিন মর্গ ও হাসপাতালের দরজায় ঘুরেছেন। আল-আকসা, আল-আওদা ও নুসেইরাত হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত খুঁজেছেন। কিন্তু কোথাও মিলেনি পুত্রের সন্ধান।

এ অবস্থায় ঈদের পরিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তাও চেয়েছিল। কিন্তু ঈদের আটক থাকার কোনো নথি পাওয়া যায়নি কারো কাছে। শেষে পরিবারের সবাই ধরেই নেয়, হয়তো শাহাদাত বরণ করেছে ঈদ নাইল শার। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করা হয় ঈদের নামে।

তবে ঈদের মা ‘মাহা আবু শা’র আশা হারাননি কখনোই। তিনি বলেন, ‘সবাই আমাকে গায়েবানা জানাজা পড়তে বলেছিল। কিন্তু আমার মন বলত ঈদ বেঁচে আছে।’

এক মাস আগে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি-কারাগারে ঈদ নামের একজনকে দেখেছেন বলে তিনি জানান। পরে গত ৪ মে এক আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করলে আনন্দে ভরে ওঠে পুরো পরিবার। শোকের বাড়িজুড়ে মুহূর্তেই নেমে আসে সুখের সমীরণ। প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন ঈদের বাবা।

তবে এই ঘটনা সামনে এনেছে গাজার হাজারও পরিবারের অনিশ্চয়তার চিত্র। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর দ্য মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের পরিচালক নাদা নাবিলের মতে, বর্তমানে ৭ থেকে ৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ইসরায়েলের কারাগারে গুম অবস্থায় থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ