শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


গলাপানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করে প্রশংসিত এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গলাপানিতে নেমে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ। এতে তিনি সব মহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান তিনি। সংসদ সদস্য নিজে পানিতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে দেখে এলাকার শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি কাকনী খালে প্রবাহিত হতো। পরে সেই পানি দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। তবে কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে বাধা সৃষ্টি করায় প্রায় সাত-আট বছর ধরে পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। এতে পঙ্গুয়াই খালে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী—এই ৯ গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছে। একই সঙ্গে ফসলি জমি ও বাড়িঘরও পানিতে তলিয়ে থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পঙ্গুয়াই গ্রামের এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকত। সংসদ সদস্য নিজে এসে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় পানি চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।

একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য তা আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তিনি নিজে এসে খালে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং এলাকাবাসীকেও উৎসাহিত করেন।

এ সময় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি ছিল খালগুলো। কিন্তু দখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে। শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, প্রয়োজন হলে তিনি নিজে ওই জমি কিনে নেবেন। এরপর খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে এনে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।

এলাকাবাসী জানান, সংসদ সদস্যের উদ্যোগে কচুরিপানা পরিষ্কারের পর খালে পানিপ্রবাহ শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। খনন ও পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে ৯ গ্রামের মানুষ স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ