সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন

ইজতেমা মাঠের হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল এবং সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকায় আয়োজিত সংগঠনটির সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখ, কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনে ঘোষিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ২০২৫ সালের ইজতেমার আগে নেওয়া পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের পরামর্শে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান করা।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে শুধু দুই পক্ষের সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। এসব ঘটনায় দায়ের করা জিআর মামলাগুলোতে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে মামলাগুলোর কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি মনিটরিং সেলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানানো হয়।

২০২৫ সালের ইজতেমার আগে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমা সর্বশেষ ইজতেমা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এরপর সাদপন্থীদের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমান সরকারের কাছে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানানো হচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলায় বহু আলেম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তাবলিগের সাথী আহত হন এবং একজন নিহত হন। ওই ঘটনার বিচার না হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলেও দাবি করেন তারা।

সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভোররাতে সাদপন্থীদের বিপুলসংখ্যক লোক টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ও নামাজরত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা চালায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান বক্তারা। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে বা এ বিষয়ে প্ররোচনা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

হত্যাকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের—তারা যে পক্ষেরই হোক—আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সম্মেলনে বলা হয়, ভবিষ্যতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘাত ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যা সমাধানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কেরামের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা শূরায়ী নেজামের অধীনে আলেমদের তত্ত্বাবধানে এবং কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কোনো সংঘাত বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীকে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিভিন্ন বক্তব্য ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে ওলামায়ে কেরামের আপত্তির কথাও তুলে ধরা হয়। তাঁকে সংশোধনের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিসহ বিভিন্ন আলেমের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, মাওলানা সাদ তওবা করে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করা পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি দ্বীনি মেহনত। এ বিষয়ে যেকোনো সমস্যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ, ছাত্র-জনতা ও তাবলিগের সাথীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তারা আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ ও তাবলিগের সাথীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে দ্বীন রক্ষা ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও সম্মেলন থেকে সতর্ক করা হয়।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ফরিদাবাদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আলেম ও মাশায়েখ।

সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী। সম্মেলনের শেষে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দাওয়াত-তাবলিগের সঠিক মেহনতের জন্য দোয়া করা হয়।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ