বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। 

রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের উদ্যোগ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তিনি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীনে সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত, জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ