ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে ‘না’ ভোট চাওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. হিলটন প্রামাণিক বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বেলা ১১টায় উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি প্রতিপালনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ইশতেহার পাঠ শেষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিলটন প্রামাণিক বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় পার্টি গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে।
তার এ বক্তব্য শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও জামায়াত সমর্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। পরে পুলিশের পাহারায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে উপজেলা চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিলটন প্রামাণিক। এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা জামায়াতের মুখপাত্র মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীর নির্বুদ্ধিতামূলক বক্তব্যের কারণেই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।
হট্টগোলের আগে প্রার্থীরা তাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী উল্লাপাড়াকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সঙ্গে বেকারদের জন্য কারিগরি ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কথা জানান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নির্বাচিত হলে ইনসাফভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং উল্লাপাড়ায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিএম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আব্দুর রহমান এবং সিপিবির মো. আব্দুল হাকিম।
আরএইচ/