সিদ্দীক আহমদ শায়েক
নব্বই দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজু দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে থাকলেও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজসংস্কার বিষয়ে তাঁর ভাবনা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। সময়ের প্রয়োজনে তিনি সব শ্রেণির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাশীল মহলের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাত্ত্বিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন দায়িত্বশীল দ্বীনি ও শিক্ষানুরাগী অভিভাবকও। কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্ববৃহৎ বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ -এর সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া -এর অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ— জামিয়া গহরপুর সিলেটের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন।
মুসলেহ উদ্দীন রাজুর রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষা এবং সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁর অঙ্গীকার। তিনি বিশ্বাস করেন— সংসদ মানে কেবল ক্ষমতার আসন নয়; সংসদ মানে সিলেট ৩ আসনের প্রায় চার লক্ষ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব।
তবে এই লড়াই কোনো একক ব্যক্তির নয়। মুসলেহ উদ্দীন রাজু একা জিতলে কিছুই হবে না— জিততে হলে জিততে হবে সিলেট-৩ আসনের জনগণকে। জিততে হবে সেই সম্ভাবনাকে, যে সম্ভাবনা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখায়। জিততে হবে ইসলাম, দেশপ্রেম ও মানবতার অধিকার আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ১০ শক্তিকে। এজন্য প্রয়োজন সকলের ঐক্যবদ্ধ, স্বতঃস্ফূর্ত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ।
সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য অংশ, সমালোচনা সামনে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সোপান। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, পরামর্শমূলক এবং অগ্রগতিমুখী। বিভাজন নয়, ঐক্যই আমাদের শক্তি। হাতে হাত রেখে যদি আমরা সামনে এগোই, তবে বিজয় অনিবার্য— ইনশাআল্লাহ।
আজ সিলেট-৩ আসনে যে ঐতিহাসিক একাত্মতার মধ্য দিয়ে প্রচারণার সূচনা হয়েছে, তা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। তাই দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায়— আমরা ভুল স্বপ্ন দেখছি না, আমরা জিততে চলেছি।
আর হ্যাঁ, মুসলেহ উদ্দীন রাজু জেতার জন্য-ই এসেছেন।
লেখক: মাদরাসা শিক্ষক
এনএইচ/