শিক্ষাঙ্গনে চলমান সংকট সমাধানে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র জমিয়ত। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারীর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকির সঞ্চালনায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বলেন, আজকের এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে আপনাদের উপস্থিতিকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এমন এক সময়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি, যখন ৫ আগস্টের মহাবিপ্লবের রক্ত এখনো শুকায়নি। যে প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়েছিল, আজ সেই প্রত্যাশার আকাশে আমরা কালো মেঘের ছায়া দেখতে পাচ্ছি।
রিদওয়ান মাযহারী বলেন, বিগত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটছে, তা আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা মনে করি, এই সংঘাত কেবল দুটি সংগঠনের মধ্যকার বিবাদ নয়, বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘ দেড় দশকের সেই ‘ভীতি’ ও ‘অনিশ্চয়তা’ পুনরায় ফিরিয়ে আনার মহড়া। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করছে—ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। আমরা পেশিশক্তির এই নোংরা প্রতিযোগিতাকে প্রত্যাখ্যান করছি।
ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার যেই শক্তিটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী একই প্লাটফর্মে হাতে হাত রেখে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টকে এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরাজিত করে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছিল, সেই শক্তিটি আজ দ্বিধা বিভক্তি ও সংঘাতের জালে আবদ্ধ হয়ে গেছে। যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম। ৫ আগস্টের পর যখন জাতি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখনো কিছু সংগঠন কেন অন্ধকার গলিপথে বা সংগোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
ছাত্র জমিয়তের সুনির্দিষ্ট দাবিমালা:
১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
২. ‘গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে হবে উম্মুক্ত ও দৃশ্যমান।
৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুমের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের ‘পেশিশক্তির চারণভূমি’ হতে দেওয়া হবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ -এর সহ সভাপতি নুর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ সভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ আজাদী।
আরএইচ/