বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


‘ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ও জিঘাংসা থেকে শাপলায় হামলা চালিয়েছিল হাসিনা সরকার’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই ৫ মে ঐতিহাসিক শাপলা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫-মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলংকময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজির ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সী ছাত্র, যাদের সাথে কোনো ধরনের অস্ত্র ছিল না, যাদের অপরাধের কোনো পূর্ব নজিরও ছিল না। তেমন একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিল তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদরাসা ও ইসলামপন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংসা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরও এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোনো স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সাথে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ২০১৩ সালের ৫-মের পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরনের বৈধতা পেয়েছিল। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যেকোনো ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির দাবি করেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রিক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্বরণ করতে হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ