নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে বিএনপির ভেতরে থাকা ‘সুপ্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের উৎকট বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, হবিগঞ্জে গত দুই দিনে যা ঘটেছে, তা কেবল রাজনৈতিক উত্তেজনা বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এটি বিএনপির ভেতরে থাকা সুপ্ত স্বৈরাচারী প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ বলে প্রতীয়মান হয়।
তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রায় দলটির নেতাদের বক্তব্য এবং ছাত্রদলের কর্মীদের হামলার ঘটনাকে প্রথমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাব এবং ক্ষমতায় থেকে বিরোধী মতকে সহিংসতার মাধ্যমে দমনের প্রবণতা হতাশাজনক।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, পরদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় দেশের মানুষ পতিত আওয়ামী শাসনামলে বহুল আলোচিত রাজনৈতিক কৌশলের পুনরাবৃত্তি প্রত্যক্ষ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন থেকে বিএনপি শিক্ষা নেবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দলটি সেই শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘চব্বিশের জুলাইয়ের আত্মত্যাগের পর জাতি এমন দৃশ্য প্রত্যাশা করেনি।’
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিষ্ণু পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই বেশি। বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনাকে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং বিরোধী মতকে শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যথায় ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সহজে নিরসন করা সম্ভব হবে না এবং তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও কল্যাণকর হবে না।
আইও/