রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ ।। ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২০ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দলে গতি আনতে পরিকল্পনা জানালেন ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব ‘এ দেশে এক পীরের যত মুরীদ আছে পুরো জামায়াত মিলেও এত লোক নেই’ জমিয়তের ঢাকা মহানগর উত্তর কাউন্সিল সফল করতে মতবিনিময় সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নেজামে ইসলাম পার্টির ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কে কোন দায়িত্ব পেলেন জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই যুবক মুয়াজ্জিন নন! আমিরে মজলিসের সঙ্গে বগুড়া জেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পীর সাহেব চরমোনাই

কে হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

মূলধারার শীর্ষ ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য দলটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে মহাসচিব পদটি। এই পদে কে আসতে পারেন সেটা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। আজ শনিবার (২৭ জুন) পীর সাহেব চরমোনাই নেতৃত্বাধীন দলটির মজলিসে শূরা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নেতৃত্ব বাছাই হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও দলের নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হবে মজলিসে শূরায়।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর ইসলামি দলগুলোর মধ্যে অনেকটা চাঙা ভাব ছিল ইসলামী আন্দোলনে। দলটির উদ্যোগেই জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি ও সমমনা দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১১ দলীয় ঐক্য। যদিও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্যে থাকেনি। দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়। এই নির্বাচনে দলটি একটি মাত্র আসনে জয় লাভ করে। যদিও ভোটের সংখ্যায় দলটির অবস্থান বেশ ভালো। বিগত নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় কিছু দিন অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল ইসলামী আন্দোলন। তবে নির্বাচনের প্রায় সাড়ে চার মাস পর নতুন করে দলকে চাঙা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলে গতি আনতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

গত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মোট ভোটের প্রায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ পায়। তবে আসনে বিচারে একটি আসন কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয় বলে মনে করে দলটি। এর জন্য দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি, জনসমর্থনকে ভোটে রূপান্তরের দুর্বলতা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রায় ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন অর্জনকে দলটি নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য সম্ভাবনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে। আর সেই ভিত্তিটা আরও মজবুত করতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ আরও ছয় মাস থাকলেও এখনই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে চলতি কমিটি। আজকের শূরা বৈঠকে নতুন করে কমিটি গঠন হতে পারে। নতুন কমিটিতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে নতুন কাউকে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কে আসতে পারেন সেটা নিয়ে দলের ভেতরে এবং বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

বর্তমান কমিটির যুগ্ম মহাসচিবদের থেকে নতুন মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন সূত্র। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। গত কয়েক বছর ধরেই দলের নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এছাড়া অনেকটা সক্রিয় থাকার কারণে তাকে দায়িত্ব দিলে দল চাঙা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব পদে আরও রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ ও মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। তবে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে দেশের বাইরে চলে গেছেন। ফলে মহাসচিব পদে যুগ্ম পদে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম ও হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদের নামও আলোচনায় আছে।

ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতিখার তারিক আওয়ার ইসলামকে শনিবারের শূরা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর একটি হোটেলে শূরা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শুধু শূরা সদস্যরাই অংশ নেবেন। বৈঠক শেষে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

মহাসচিবসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে স্বীকার করেন শাহ ইফতিখার তারিক। তিনি জানান, দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ অনেক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এই শূরা বৈঠক এবং দলীয় পদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি সেটারই অংশ। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলে গতি আসবে বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন রাজনীতির ময়দানে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় বলে জানান তিনি। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি এতদিন অনেকটা ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করলেও এখন রাজনীতিতে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চায় বলে জানান শাহ ইফতিখার তারিক।

ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনূছ আহমদ ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সজ্জন এবং ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে দলের ভেতরে এবং বাইরে পরিচিত। তবে ইসলামী আন্দোলনের মতো বৃহৎ একটা দলকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিচালিত করতে তিনি পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছেন না বলে মনে করেন নীতি-নির্ধারকদের অনেকেই। এজন্য তাঁকে আপাতত এই পদ থেকে সরিয়ে অন্য কোনো সম্মানজনক পদ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ বা প্রেসিডিয়ামে দেখা যেতে পারে হাফেজ মাওলানা ইউনূছ আহমদকে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ