শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১০ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
চট্টগ্রামে বিএসটিআই ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ‘সরকার বিদ্যুতের ট্যারিফ স্থিতিশীল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে’  ‘নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে’ গণভোটের ফলাফলে সংশোধনী এনেছে ইসি  ‘সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে অফিসে না আসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ জামালপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: জরিমানা ২০ হাজার  বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: নরেন্দ্র মোদী স্বাস্থখাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দ চূড়ান্ত, কে কোথায় পেলেন রোজায় পানি শূণ্যতা পূরণ করবে যে ৫টি ফল

সূর্যের আলোর এক মিলিয়ন বছরের যাত্রা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ||

সূর্য—মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই শ্রদ্ধা, বিস্ময় আর জ্ঞানের প্রতীক। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্য শুধু আলো বা তাপের উৎস নয়, এটি একটি বিশাল পারমাণবিক চুল্লি—যেখানে প্রতিমুহূর্তে ঘটে যাচ্ছে মহাজাগতিক বিস্ময়। তারই একটি চমকপ্রদ দিক হলো সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পেছনের দীর্ঘ ও জটিল যাত্রা।

সূর্যের গভীরে আলো জন্মের রহস্য  
সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অতি উচ্চ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে হেলিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় ফোটন নামে ক্ষুদ্র শক্তিকণা—সূর্যের আলো।

কিন্তু এই আলো বা ফোটন সরাসরি সূর্যের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। সূর্যের অত্যন্ত ঘন স্তরের কারণে প্রতিটি ফোটন বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, দিক পরিবর্তন করে, এবং এগোয় খুব ধীর গতিতে।  

১০ লক্ষ বছরের ভেতরের যাত্রা!  
গবেষণা বলছে, একটি ফোটন সূর্যের কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠে পৌঁছাতে সময় নেয় গড়ে ১০ লক্ষ বছর! এটা শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সূর্যের ঘনত্ব ও তাপমাত্রার কারণে এই যাত্রা সত্যিই এত দীর্ঘ।

মাত্র ৮ মিনিটে পৃথিবীতে পৌঁছানো!  
পৃষ্ঠে পৌঁছানোর পর, সেই আলো আর থেমে থাকে না। এটি আলোকবেগে (প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিমি) ছুটে মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে সূর্য থেকে পৃথিবীতে এসে পড়ে।  

সূর্য: জীবনের উৎস ও বিজ্ঞানের বিস্ময়  
আজ আমাদের গায়ে পড়া একটি সূর্যকণা—হয়তো ১০ লক্ষ বছর আগে সূর্যের গহীনে সৃষ্টি হয়েছিল! এটি কেবল সময়ের একটি মাইলফলক নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের সাথেও জড়িয়ে থাকা এক মহাজাগতিক গল্প।

সূর্যের আলো শুধু আলো নয়, এটি সময়ের গল্প, শক্তির জ্বালা, এবং জীবনের স্রোত। পরেরবার যখন সূর্যের আলোয় ভিজবেন, একবার ভেবে দেখবেন—আজকের এই আলো হয়তো জন্ম নিয়েছিল ডাইনোসরের যুগেও আগে! সূর্য—একটি বিশাল মহাজাগতিক বিস্ময়, যার আলোয় আজও পৃথিবী জেগে থাকে। 

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ