একসঙ্গে কয়েকটি জনপ্রিয় এআই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া কাজ করতে হয়েছে অনেক ব্যবহারকারীকে। আর এই পরিস্থিতি নিয়েই রসিকতা করেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
ইন্ডিয়া টুডের একপ্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
বৃহস্পতিবার চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও গ্রক—তিনটি জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মেই সাময়িক বিভ্রাট দেখা দেয়। এতে অনেক ব্যবহারকারী এআই সহায়তা ছাড়া কাজ করতে বাধ্য হন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মজার প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এর মধ্যেই একটি ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করে মানুষের এআই-নির্ভরতা নিয়ে মজা করেন মাস্ক।
মাস্ক এক্সে একটি ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ওরাংওটাং পাথর ব্যবহার করে পেরেক ঠোকার চেষ্টা করছে। কাঠমিস্ত্রির মতো কাজ করার চেষ্টা করলেও প্রাণীটিকে বেশ অদক্ষ ও তালগোল পাকানো অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি শেয়ার করে মাস্ক লেখেন, ‘ভবিষ্যতের এআইয়ের চোখে মানুষ কোড লিখছে।’
অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এআই এতটাই উন্নত হয়ে উঠতে পারে যে মানুষের নিজের হাতে কোড লেখার বিষয়টিকেই তারা অদক্ষ ও পুরোনো পদ্ধতি হিসেবে দেখবে—এমনটাই রসিকতা করেছেন তিনি।
এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর সাময়িক বিভ্রাটে অনেক ব্যবহারকারীকে নিজেদের স্বাভাবিক কাজ নিজেরাই করতে হয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা কোড লেখা, ভুল খুঁজে বের করা ও বিভিন্ন কাজের জন্য নিয়মিত এআইয়ের সাহায্য নেন।
লেখালেখি, তথ্য খোঁজা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কাজেও এখন এআই সহকারী ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
ফলে হঠাৎ এসব সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে নিজেদের নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এমন মজাও করেছেন যে, এআই ছাড়া কোড লিখতে থাকা মানুষকে যেন প্রকৃতির মধ্যে কাজ করা কোনো প্রাণীকে পর্যবেক্ষণের মতো দেখাচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও গ্রক প্রায় একই সময়ে সমস্যায় পড়লেও তিনটি সেবার বিভ্রাটের পেছনে একই কারণ ছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে ত্রুটির হার বেড়ে গিয়েছিল। পরে সমস্যাটি শনাক্ত করে সমাধান করা হয়।
অ্যানথ্রপিকও ক্লদের কয়েকটি মডেলে ত্রুটির কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি পরে সমস্যার সমাধান করে।
অন্যদিকে, গ্রকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই জানিয়েছিল, তাদের সেবাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর সেটি স্বাভাবিক হয়।
অর্থাৎ, তিনটি প্ল্যাটফর্ম একই সময়ে সমস্যায় পড়লেও একটি অভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সবগুলো বন্ধ হয়েছিল—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
ঘটনাটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিভ্রাট নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতাও সামনে এনেছে।
এখন সফটওয়্যার তৈরি থেকে শুরু করে লেখালেখি, তথ্য অনুসন্ধান এবং নানা ধরনের সৃজনশীল কাজেও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এআই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেই কিছু কাজ আগের তুলনায় কঠিন মনে হতে পারে।
ইলন মাস্কের মন্তব্য তাই শুধু একটি রসিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে।
এসএইচ/