মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ভুল দুই প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোকবইয়ে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের পক্ষে সই কাতারের সাবেক আমিরের ইন্তেকালে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন আমিরে মজলিস

ঢিমেতালে চলছে বৃহৎ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

sorkarআওয়ার ইসলাম: দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার পরও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সেতু, সড়ক ও মহাসড়ক, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বৃহৎ অর্থ বরাদ্দপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়ন চলছে ঢিমেতালে।

এসব মন্ত্রণালয় চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন ৩০ শতাংশও ছুঁতে পারেনি। বড় ১০ মন্ত্রণালয়ের গড় বাস্তবায়ন ২৯.৫২ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্মসূচি না থাকলেও ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও কম। ওই বছর এই হার ২৮ শতাংশ ছিল বলে আইএমইডির তথ্য থেকে জানা গেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী গতকাল জানান, এই বছর এডিপি বাস্তবায়ন ব্যয় বাড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাতারাতি কিছু করতে পারছি না।

আইএমইডির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার হলো এক লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বৃহৎ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০ মন্ত্রণালয়ের কোনোটিই গত ছয় মাসে ৪০ শতাংশও বাস্তবায়ন দেখাতে পারেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের বাস্তবায়ন হার ৩৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় তাদের এই ব্যয় বেড়েছে।

অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ (থোক বরাদ্দসহ) ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪৬ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই ১০ মন্ত্রণালয় ৭৫০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮৯ হাজার ৮৯৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা এডিপিতে বরাদ্দ পেয়েছিল, যা মোট এডিপির ৭২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কিন্তু তারা অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় করতে পেরেছে ২৬ হাজার ৫৩৫ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যা ৩০ শতাংশেরও কম।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো প্রকল্পের জন্য দুই ধরনের বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে বেশি ব্যয় করে সরকারি অর্থ। সুদে ও বিভিন্ন শর্তে দাতাসংস্থা বা দেশগুলোর কাছ থেকে নেয়া ঋণের টাকা সহজে তারা ব্যয় করতে চায় না। ফলে গত ছয় মাসের অর্থ ব্যবহারের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হয়েছে ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং প্রকল্প সহায়তার টাকা ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, অর্থবছরের পুরো সময় কোনো কাজ না করে শেষ সময় এসে কাজের নামে অর্থ লুটপাটের আয়োজন করা হয়। বছরজুড়ে যদি কাজ করা হয় তা হলে প্রকল্পগুলোর কাজের গতি স্বাভাবিকভাবে এগোতে থাকে। কিন্তু তা না করে অর্থবছরের অন্য সময়গুলো কাজ না করে সময় নষ্ট করা হয়। আর শেষে এসে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। সরকারও নিজের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে আধাআধি কাজ অথবা অগ্রিম কাজ দেখিয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার বাড়িয়ে দেখানো হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তো আছে। তারা বলেন, আমাদের দক্ষতার অভাবও রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি খাতের প্রকল্পে ক্রয়প্রক্রিয়াও দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এসবের উত্তরণ ঘটানো না গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে যে সমস্যা আছে তা থেকেই যাবে। তবে বহুদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছিল যে এসব প্রতিরোধের জোরাল পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তা আমরা দেখছি না।

গতকাল মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং বাস্তবায়ন হার ছিল ২৪ শতাংশ।
গত অর্থবছর একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছিলেন, বছর শেষে প্রকল্পের অর্থ খরচের হিড়িক দেখা যায়। এতে প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ পরিস্থিতি রোধে প্রতি প্রান্তিকে বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুতে না করে বিভিন্নভাবে বিলম্বিত করে জিনিসপত্রের দাম বেশি দেখিয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়। আর অর্থবছরের শেষ সময় এসে অর্থ লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।

ডিএস


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ