বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত জামি'আ ইকরায় উচ্চতর উলুমে হাদিস বিভাগের যাত্রা শুরু সংবিধান উপেক্ষা করে কাশ্মীরে মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ শুরু ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন: খেলাফত মজলিস ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির’ ভুল সংবাদের ভিত্তিতে ইসি শোকজ করেছে: মাওলানা মামুনুল হক এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ  ইসিতে শুনানির পঞ্চম দিনে আরও ৭৩ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর বিজিবিতে নিয়োগ পেয়ে যা বললেন ফেলানীর ছোট ভাই ইসলামী আন্দোলনের আমীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেন নাই

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সহায়তা নিতে সম্মত বাংলাদেশ-মিয়ানমার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডাব্লিউজি)।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের বৈঠক শেষে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং এর কর্মপরিধিবিষয়ক সমঝোতা সই হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর উপস্থিতিতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব ইউ মিয়ন্ত থ চূড়ান্ত করা কর্মপরিধি সই করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের ১৫ জন করে সদস্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে থাকবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের বলেন, আগেই দুই দেশের মধ্যে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যবস্থাবিষয়ক চুক্তি) সই হয়েছিল। তার অধীনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি হয়ে গেল। এখন পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টির কথা জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর সই হওয়া চুক্তির দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা নিশ্চিত করতে কাজ করবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চুক্তির আলোকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়া, পুনর্বাসন ও পুনর্প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে।

কার্যপরিধি অনুযায়ী, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া শুরুর জন্য ভৌত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলবে।

এর মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য পরিচয় যাচাই কাঠামো, সময়সীমা নির্ধারণ, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু ও যোগাযোগের বিষয় থাকবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করবে এবং দুই দেশের সরকারকেই তিন মাস পর পর অগ্রগতি জানাবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার ঢাকায় আসেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব। গত ২৩ নভেম্বর নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সইয়ের পর তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে গ্রুপ গঠন করতে উভয় দেশ ব্যর্থ হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির পর তা বাস্তবায়ন নিয়ে যখন দুই দেশ আলোচনা করছে তখনও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে। ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজে) তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাদের ইচ্ছার ওপর। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। আবার এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে নেপিডোর ওপর চাপ সৃষ্টির সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।

সুত্র: কালের কন্ঠ।

 

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ