রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৯ রজব ১৪৪৭


কাশ্মীর ইস্যু: ভারতের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংসদীয় পদক্ষেপ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে গোটা দেশে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এবার ইস্যুটি নিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম কোনো সংসদীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যার অংশ হিসেবে কাশ্মীরের ‘মানবিক সংকট’ অবসানের আবেদন একটি সংসদীয় প্রতিবেদন যুক্ত করেছেন মার্কিন সিনেট প্যানেলের আইনপ্রণেতারা।

কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন বার্ষিক ফরেন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট-২০২০ কে কেন্দ্র করে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি তাদের প্রতিবেদনে কাশ্মীরের ‘মানবিক সংকট’ অবসানের আহ্বান যুক্ত করেছে। যার অংশ হিসেবে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভন হোলেন এই সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন।

গণমাধ্যমের দাবি, চলতি সপ্তাহে হোলেন কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নয়াদিল্লি সফর করেন। যেখানে মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যসহ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি নিয়েও আলোচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান নেতা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচারী হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এদিন প্রতিবেদনটি মার্কিন সিনেটে উত্তাপন করেন।

যেখানে বলা হয়, কমিটি অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কাশ্মীরের বর্তমান মানবিক সংকটের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাছাড়া উপত্যকাটির টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু, অবরুদ্ধ অবস্থা এবং কারফিউ প্রত্যাহারসহ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

কেননা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। হাউস্টনে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে দুজনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কয়েকদিন পর এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

মার্কিন সিনেটর ক্রিস হোলেন ‘দ্য হিন্দু’কে বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর জমা দেয়া প্রতিবেদন মূলত দ্বি-দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সিনেটের গভীর উদ্বেগের প্রকাশ এবং সেখানকার পরিস্থিতিকে যে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি সেই বার্তাটি দেয়া হয়েছে।

ক্রিস হোলেন আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে আশাবাদী ছিলাম। যদিও তখন শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে আর দেখা হয়ে উঠেনি।

ভারত সরকারের আচরণের প্রতিক্রিয়ায় তারা এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিনা সেটা পরিষ্কার নয়। কারণ সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শনে শ্রীনগর যেতে সিনেটর ক্রিস হোলেনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত সরকার।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ