মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :

নিকাব নিয়ে কটূক্তিকারীর শাস্তি না হলে ধরে নেব বিএনপি এই বক্তব্য ধারণ করে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তাজমিন রহমান বলেন বলেন, " বিএনপি’র একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হয়ে কীভাবে বলেন—‘নিকাব পতিতা বৃত্তিদের পোশাক,’? ​নিকাব কোন পেশার পোশাক হতে পারে না। ​নিকাব হচ্ছে মুসলিম সমাজে বহুকাল ধরে প্রচলিত নারীদের বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। বিএনপি’র যে হর্তাকর্তা ও চেয়ারপার্সন আছেন, তাকে প্রকাশ্যে দেখাতে হবে যে তিনি এই নেতার বিরুদ্ধে কী কী অ্যাকশন নিয়েছেন। অথবা আমরা সাধারণ জনগণ ধরে নেব যে এই নেতার বক্তব্যকে বিএনপি ধারণ করে, লালন করে।"

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমদ ঠাকুর কর্তৃক হিজাব ও নিকাবকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় প্রায় অর্ধশতাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তার মন্তব্যকে কোনোভাবেই বক্তব্য হিসেবে মানি না। আমি এটাকে দেখছি নারীর প্রতি তার যে বিদ্বেষ এবং তার অজ্ঞতা এবং তার নোংরা মনমানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। নিকাব আমার অধিকার, নিকাব আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নিকাব আমার স্বাধীনতা। নিকাব আমার স্বাধীনতা আছে, ছিল, থাকবে। ভবিষ্যতে এর দিকে যে আঙুল বাড়াবে কিংবা হাত দেওয়ার চেষ্টা করবে, আমাদের বাঙালি সমাজে যারা নারী আছেন, মুসলিম নারী আছেন, যারা আমরা ইসলামকে ধারণ করি, লালন করি— আমরা সেই সকল অপশক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করব না।”

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে “লজ্জা আমার অলংকার, নিকাব আমার অধিকার”, “নিকাব আমার পরিচয় অপমান নয়”, “ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রেখে দাও”, “হিজাব আমার অধিকার”, “হিসাব বিদ্বেষ বন্ধ কর, নারীর স্বাধীনতা রক্ষা কর”, “নকিব নয় মানসিকতা বদলাও”, “নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি”, “যতই কর কটুক্তি ভাঙবে না এই ভক্তি”, “নিকাব নয় জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ”, “বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না” ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এসময় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, সুরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।” কেউ যদি পর্দা করে নিজেকে আড়াল করে, তাকে কটূক্তি করা অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়, ফ্রক পরা মেয়ে যেমন  স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নেকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স হোক, নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমদ ঠাকুর তার এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘ইয়াহুদী নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো অথবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম করতো, তখন নেকাব পড়তো। হিজাব হলো মুসলমানের ড্রেস বাট নেকাব মুসলমানের ড্রেসই না।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ