বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭

শিরোনাম :
রমজান ও নির্বাচন সামনে রেখে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ অর্ধশতাধিক আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন প্রত্যাহার হান্নান মাসউদকে সমর্থন জানিয়ে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার মায়ের দোয়া অনুষ্ঠানে ইমামকে অনন্য সম্মান তারেক রহমানের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিতে চাই : তারেক রহমান রমজানে একজন দক্ষ দাঈ হিসেবে গড়ে তোলার আয়োজন আস-সুন্নাহর ২৯ আসনে খেলাফত মজলিসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ সিলেট-৩: মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে সমর্থন জানিয়ে সরে গেলেন তিন প্রার্থী যে কারণে একের পর এক খুন করেন সম্রাট

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নেরও পরার্মশ দেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগেরও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ জন্য বিচার বিভাগের অধীনে পৃথক সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগে আইনের প্রয়োজন। নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারকেই এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের এক যুগ' শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংগঠন 'হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন' এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও সংবিধান বিশ্নেষক মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, বিচারবিভাগ পৃথকীকরণে আমাদের পলায়নপরতার অবসান ঘটুক। মাসদার হোসেন মামলার অর্জনকে পাথেয় করেই আমাদের পথ চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ মানুষ আদালতমুখী হন বলে মামলাজট ৩৬ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। যদি আরও ৮৫ শতাংশ মানুষ আদালতে যেতো তাহলে কি দাঁড়াতো? তাই এ বিষয়ে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তিনি সভায় বিচার বিভাগ পৃথককীরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ে দেয়া ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্নেষণ করে তুলে ধরেন।

আলোচনায় বিচারপতি মুহা. আব্দুল মতিন বলেন, ন্যায়বিচার মানে মনিবের আনুগত্য নয়, বরং আইনের আনুগত্য। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের চরিত্রে ও অনুভূতিতে স্বাধীনতার বোধ থাকা প্রয়োজন। তাহলেই সত্যিকারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসবে।

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হবেই। আমরা কাকে খুশি করব, কাকে বিরাগভাজন হব, তা না ভেবে আমরা যদি বলি এখানে আইনের শাসন থাকবে, তাহলে আমাদেরই সজাগ থাকতে হবে, দারোয়ানের মতো কাজ করতে হবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচার বিভাগের সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিদের শাসন বিভাগে সম্পৃক্ত করা উচিত না। বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পেলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব হয়। হয়তো বিচার বিভাগ হতে আমরা যতটা চাই ততটা পাই নাই। কিন্ত স্বাধীনতার পর হতে বিচার বিভাগের অর্জন কম নয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আইনজীবী শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মুহা. আব্দুল মতিন, বিচার বিভাগ পৃথককীরণ সংক্রান্ত মামলার বাদী আলোচিত সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এএম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ