শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে আলোচনায় বসবে না তেহরান, ইরানের বার্তা দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী শোনো হে নবীন! তোমাকেই বলছি ... প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমের তালিকায় দ্বিতীয় মুফতি তাকী উসমানী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, সংসদে বিল পাস এলএনজি-এলপিজি নিয়ে দেশের পথে ৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে ফি-গ্রহণ বন্ধের তাগাদা ট্রাম্পের ‘কওমিতে একাধিক কিতাব দরসভুক্ত করা ছাড়া সিরাতের ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়’ হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নির্ধারণ করল ইরান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ঝুঁকির মুখে যুদ্ধবিরতি, বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদে

জুমা নাকি জোহর; কাদা ছোড়াছুড়ি না করে বিজ্ঞ মুফতিদের অনুসরণ করুন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী অবস্থায় ঘরে জুমা আদায় করা যাবে নাকি যোহর আদায় করতে হবে-এ নিয়ে উপমহাদেশের হানাফী মাযহাব অবলম্বী উলামায়ে কেরামের ভিন্ন ধরনের ফতুয়া প্রদান করেছেন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও জামিয়া করাচির প্রধান মুফতি তাকি উসমানি, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনমাওলানা আব্দুল মালেক, তাদের ফতোয়া হল মুসুল্লিরা নিজ গৃহে জোহরের নামাজ আদায় করে নিবে।

অন্যদিকে হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম চাটগামীমুফতি মনসুরুল হকের ফতোয়া হল কিছু শর্ত সাপেক্ষে মানুষ ঘরেই জুমা আদায় করতে পারবে।

এ নিয়ে অনলাইন-অফলাইনে চলছে তীব্র সমালোচনা ও কাদা ছোড়াছুড়ি। চলমান এ বিবাদ নিরসনে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, নতুন পরিস্থিতিতে নতুন মাসালা সামনে এসেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উলামায়ে কেরাম ইজতিহাদ করেছেন। ইজতিহাদের ফলাফল একই রকম হতে হবে -এমনটি জরুরী বিষয় নয়। সুতরাং কাদা ছোড়াছুড়ি না করে বিজ্ঞ মুফতিদের অনুসরণ করা উচিত।

আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য তার বিবৃতি হুবহু তুলে ধরা হলো-

সম্প্রতি ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বের বিজ্ঞ বিজ্ঞ মুফতিয়ানে কেরামের একটা যুগান্তকারী ফতোয়াকে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মসজিদসমূহে 'লকডাউন' বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় যে সকল পুরুষ মসজিদে এসে জুমা আদায় করতে ভীষণভাবে অপারগ হয়ে পরেছেন, তারা নিজেদের বাসা-বাড়ীতে জুমা আদায় করবেন নাকি যোহর ?

শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকী উসমানিসহ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু মুফতিয়ানে কেরামের ফতোয়া হচ্ছে, মুসলিমপ্রধান দেশসমূহে জুমা আদায় না করে যোহর আদায় করা। কাফের প্রধান দেশে জুমা আদায় করতে চাইলে আদায় করা।

বাংলাদেশের মুফতিদের মধ্যে আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক হা., মুফতি দেলাওয়ার হুসাইন হা. অন্যতম। এবং আমি অধমও তাঁদের দেয়া ফতোয়ার সাথে একাত্বতা পোষণ করেছি। এ সম্পর্কে আমার বক্তব্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ ।

অপরদিকে বাংলাদেশের আরো কিছু বিজ্ঞ মুফতিদের ফতোয়া হচ্ছে, বাসা-বাড়ীতে কিছু শর্তের আলোকে যোহর নয়, বরং জুমা আদায় করা। এদের মধ্যে, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ফকীহ ও আহলে ইলম আল্লামা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী হাফি. ও মুফতি মানসুরুল হক হাফি. অন্যতম।

তবে আমরা যারা যোহর আদায় করার পক্ষে ফতোয়া দিয়েছি, আমাদের দ্যার্থহীন বক্তব্য হলো, যে কেউ বিজ্ঞ কোন আহলে ইলমের ফতোয়া অনুসরণে জুমা আদায় করলে তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে পুনরায় তাকে যোহর আদায করতে হবে না। যদিও আমাদের নিকট সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ফতোয়া হচ্ছে, যোহর আদায় করা, জুমা নয়।

ফতোয়া ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো, বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন। নবাগত বিষয়ে আহলে ইলমদের নিজস্ব 'ইজতিহাদ' গবেষণা করার ন্যায্য অধিকার আছে। বিধায়, পরস্পরের মাঝে মতভিন্নতা হওয়াটা স্বাভাবিক। স্বয়ং শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানি ও তার লিখিত ফতোয়ার মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি খুব শ্রদ্ধার সাথে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তাই এটাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সমালোচনার দ্বার উন্মোচন করা, কোন আহলে ইলম বুযুর্গের মান - মর্যাদা কে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাঁর শানে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শ পরিপন্থী ।

সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, মেহেরবানী করে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করি। তাহকীক ছাড়া কারো ব্যাপারে অহেতুক গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকি। যার কাছে যাকে গ্রহণযোগ্য মনে হয় তাঁকে অনুসরণ করে আমল করি। আল্লাহ সকলকে বুঝার তাওফিক দান করুন। والله تعالى أعلم بالصواب।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ