বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার যানজট ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক: ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ করল সৌদি ও পাকিস্তান দুপুরের মধ্যে ৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর ৭১ সদস্যের কমিটিতে যারা স্থান পেলেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা আজ কালশি বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে বিকেএম নেতৃবৃন্দ দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে খেলাফত মজলিসের পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা কুরবানি: গ্রামীণ অর্থনীতির মৌসুমি প্রাণশক্তি ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে গেল দাখিল মাদ্রাসার টিনের চাল এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বিআরএফের আব্বাস উদ্দিন শায়ক

কুরবানি: গ্রামীণ অর্থনীতির মৌসুমি প্রাণশক্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| শায়খ আহমাদুল্লাহ ||

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে কুরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে?

ইবাদতও যে কখনো কখনো গণমানুষের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, কুরবানি তার বড় উদাহরণ।

গত কয়েক বছর ধরেই প্রতি কুরবানিতে এক কোটির ওপর পশু কুরবানি হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক পশুর বড় অংশ উৎপাদন করে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার।

এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ। ফলে কুরবানির ঈদ গ্রামীণ অর্থনীতির এক মৌসুমি প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

একসময় এই হিসাব পশুর বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া, মসলা, কামারশিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কুরবানি সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

আবার নিয়মতান্ত্রিক খামারিদের বাইরেও বিপুলসংখ্যক কৃষক সারা বছর গরু-ছাগল পোষেন কুরবানির হাটে বিক্রি করবার আশায়। এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।

এই পশু বিক্রি করে তারা মেয়ের বিয়ে দেন, ঘরের চাল মেরামত করেন, স্ত্রীর চিকিৎসা করান।

একটা সময় পার্শ্ববর্তী দেশের গরুতে সয়লাব থাকত আমাদের কুরবানির বাজার। কিন্তু দিনে দিনে এদেশের খামারি ও কৃষকরা পশু-শিল্পে এতটাই মনোযোগী হয়েছেন, এখন আমাদের উৎপাদিত পশুতেই কুরবানি চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। 

শুধু তাই নয়, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই হয়তো আমরা বিদেশে গরুর গোশত রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারব।

অর্থনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি অভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আমিষ ও খাদ্যচাহিদা পূরণেও বিশাল এবং প্রধান ভূমিকা রাখে কুরবানি। এমনও হয়, যে কৃষক কুরবানির হাটে গরু বিক্রি করল, বাজার ঘুরে ঈদের দিন তার ঘরেও ফিরে আসে কুরবানির গোশত।

এতকিছুর পরও কুরবানির সময় আমাদের দেশে অনেক সিজনাল পশুপ্রেমীর আবির্ভাব ঘটতে দেখা যায়। তারা কি কুরবানী-কেন্দ্রিক এই বিপুল অর্থনীতির বাজার এবং ইহজাগতিক কল্যাণ সম্পর্কে ধারণা রাখে না?

অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমাদেরকে পশু-জবাই করতেই হয়। কিন্তু ইবাদতের পাশাপাশি এটা যদি হয় কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও অভাবীদের আমিষের চাহিদা পূরণের হাতিয়ার, তবে এটা নিয়ে আপত্তি তোলা নির্বুদ্ধিতা কিংবা মতলববাজ আচরণ ছাড় কিছু নয়।

লেখক: বিশিষ্ট দাঈ, চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ