মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৪) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় গণহত্যা অব্যাহত: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জাপানে আজ শীর্ষ বৈঠক, হতে পারে ৮ সমঝোতা সব সময় অজু অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সুসংবাদ ট্রেনের টিকিট নিয়ে অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা : প্রতিমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নবের’ প্রভাবে যেসব বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতায় জামিয়া বাইতুল করিমের দুই শিক্ষার্থীর সাফল্য সরকার আজ বললে কালই নিচের সব সনদের মান দেবে বেফাক: ওবায়দুর রহমান খান নদভী গাজীপুরে আবারও ঝুটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

বিসিএস ক্যাডার গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে কওমি মাদরাসা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মুনাওয়ার হোসাইন
আলেম ও গবেষক

যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বরত তারা এ দেশের নাগরিক ও বেশি সংখ্যক মুসলিম ঘরের সন্তান। তারা সবাই খুব ধনী ফ্যামিলি থেকে এসে বড় বড় অফিসার হয়েছে এমন নয় বরং অনেকেই খুব কষ্ট করে আজকের এ পর্যায়ে এসেছেন। সে কষ্টের সময়টাতে আমরা হাত বাড়িয়ে দিতে পারলে আমাদের সম্মান তাদের নিকট আমূল পরিবর্তন হতো।

গ্রাম থেকে যাওয়া ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়া ছেলে-মেয়েটি হয়তো হলে সীট পায়নি, পেলেও মাসে মাসে যে খরচের টাকা প্রয়োজন সেটি তার বাবা-মা বাড়ি থেকে দেয়ার সামর্থ রাখেনি। টিউশনি করে, অগোচরে হকারি করে বা অন্য যে কোনোভাবে তার জীবন চালিয়েছে। মানবেতর জীবন শেষে, কষ্টের সাগর পাড়ি দিয়ে বিসিএস নামক কঠিন প্রাচীর হয়তো পার হতে পেরেছে। যার ভাগ্য ভাল সে আজ অফিসার। কিন্তু তার ছাত্র যামানাটা এত সুখের ছিল না। সে সময়টাতে খুব বেশি কিছু দরকার ছিল না। দু বেলা খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাই ছাড়া।

কারো হয়তো শুধু মাথা গোঁজার ঠাই দরকার। কারো দু’বেলা খাবার, কারো হয়তো সামান্য কিছু টাকা। কিন্তু এ সময়টাতে সে কাউকে পায়নি। ঠিক এ জায়গাটাতেই কওমী মাদরাসা, উলামায়ে কিরাম, মসজিদের ইমাম সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে পারতো। খেদমতের সুযোগ নিতে পারতো।

সকল বড় ও মাঝারি মাদরাসাগুলো যদি তাদের মাদরাসায় এমন একটা শাখা রাখতো যেখানে ইউনিভার্সিটির মেধাবি ছাত্ররা ফ্রি থাকা খাওয়া ও পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে। এভাবে দরিদ্র ও মেধাবী গ্রামের ছাত্রদের প্রস্তুত করে বছরে হাজার খানেক ছাত্র প্রস্তুত করতে পারতো, যারা সরকারি চাকুরিতে স্থান করে নেবে। তাহলে রেজাল্টটা কেমন হতো? এখনো শুরু করা যায়। আপনিও পারবেন।

বিসিএস করার জন্য যথেষ্ট পড়াশুনা করতে হয়। প্রস্তুতির এ সময়টাতে তাদের নিরবিচ্ছিন্ন পড়ালেখা করতে থাকার জায়গা, খাওয়া ও হাত খরচ লাগে। এ প্রয়োজন পূরণে বছরব্যাপী এমন ২ হাজার ক্যান্ডিটেড যদি পুরো ঢাকার মাদরাসাগুলো সার্ভ করতে পারতো, তবে এরা অফিসার হয়ে একেকজন একেকটা মাদরাসার দায়িত্ব নিতো। রাষ্ট্র ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়তো হতো। কিন্তু এমন এ দিন কি আসবে? ইসলামের দরদী আলেমরা এমন সিদ্ধান্ত কি নেবে-এমন আশা ও স্বপ্ন দেখে দিন পার করি। আহা মাঠের জনমত তৈরীর পাশাপাশি আগামি ৫০ বছরের রোডম্যাপ যদি আমাদের ভাইয়েরা প্রস্তুত করতো!

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মাদরাসাতুল মদীনা-বগুড়া ও সাবেক খতীব, বায়তুল আতীক জামে মসজিদ, বারিধারা, ঢাকা।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ