বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
আগামীকাল বায়তুল মোকাররমে জুমা-পূর্ব আলোচনা করবেন আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বন্যাদুর্গতদের জন্য জুলাইয়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের উদ্যোগ হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রেরণের নির্দেশ ইসির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে’  ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের নিকটে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ইরানের ‘সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’

আয়া সোফিয়া নিয়ে জাতিসংঘের সমালোচনার কড়া জবাব তুরস্কের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে ইউনেস্কোর অবস্থান পুরোপুরি ‘রাজনৈতিক ও পক্ষপাতপূর্ণ’ বলে অভিযোগ করেছে তুরস্ক। আয়া সোফিয়া নিয়ে সংস্থাটির মনোভাবে খুবই অবাক হয়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আয়া সোফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

সম্প্রতি ‘ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক অঞ্চল’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো। সেখানেই তারা আয়া সোফিয়া নিয়ে গভীর চিন্তার কথা জানিয়েছে। কিন্তু তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আয়া সোফিয়া নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মসজিদ করা হলেও এই ঐতিহাসিক ভবনের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ভবনের ওপর পড়েনি।

তুরস্ক সরকার জানিয়েছে, জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় থাকা ঐতিহাসিক ভবন নিয়ে সরকারের দায়িত্ব, অধিকার ও ক্ষমতা সম্পর্কে তারা সচেতন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানও শনিবার টুইট বার্তায় বলেন, তুরস্কের সভ্যতার যে আবার সূর্যোদয় হচ্ছে, আয়া সোফিয়া তারই প্রমাণ। তার আশা বিশ্বের শেষদিন পর্যন্ত এর অন্দরে মুসলিমদের প্রার্থনা অনুরণিত হবে। ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, চীনে এখন ইউনেস্কোর বার্ষিক বৈঠক চলছে। তারা আয়া সোফিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তুরস্কের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছে।

ইউনেস্কোর কমিটি জানিয়েছে, তাদের কাছে বেশি তথ্য নেই, এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। তাই তারা এই বিষয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে এবং তারা চায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটা নিয়ে আলোচনা হোক।

আয়া সোফিয়া নির্মিত হয় বাইজান্টাইন আমলে। মুসলমানরা ‘ইস্তাম্বুল জয় করার পূর্বে এটি ৯১৬ বছর ধরে খ্রিস্টানদের গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এরপর স্থাপত্যটি ১৪৫৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৩৪ সালে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের পর মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক স্বাক্ষরিত এক ডিক্রিতে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। বিগত ৮৬ বছর ধরে এটি জাদুঘর হিসেবেই ছিল।

২০২০ সালের ১০ জুলাই তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত কামাল পাশার ওই ডিক্রি বাতিল করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান স্থাপনাটি মসজিদে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছরের মে মাসে ইস্তাম্বুল বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান আয়া সোফিয়াতে নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে ঐতিহাসিক মসজিদটিতে এক বছরে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ভ্রমণ করেছে। সূত্র: ইকনা

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ