সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা কমিটি গঠন উপলক্ষে বিকেএমের দায়িত্বশীল সভা মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক উপপ্রধানের হাতে কুরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ নেপালে টানেলে আটকে থাকাদের উদ্ধারে কাজ করছে ১০ হাজার সেনা সদস্য শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ মাগুরার শ্রীপুরে জমিয়তের ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংস্কৃতিচর্চার অধিকার আছে কিন্তু ধর্মচর্চার অধিকার কই? মক্কার জাদুঘরে নবম শতাব্দীর বিরল কুরআনের পাণ্ডুলিপি আরএসএস প্রধানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ওয়াইসির ‘৫ সেপ্টেম্বর লংমার্চের আগেই গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিন’

আরএসএস প্রধানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ওয়াইসির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে কোনো হিন্দু যদি মনে করেন যে, দেশে কোনো মুসলমান থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি আর হিন্দু থাকবেন না—রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

ওয়াইসি বলেছেন, এটি আরএসএসের ‘পুরোনো কৌশল’। তাঁর দাবি, সংগঠনটি বিশ্বের সামনে এক ধরনের বক্তব্য দেয়, আর নিজেদের কর্মীদের সামনে ভিন্ন ধরনের কথা বলে।

তিনি বলেন, আরএসএস তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতাদর্শিক নেতা ও লেখকদের বক্তব্য থেকে কখনো স্পষ্টভাবে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেনি। তাই মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে এসব মতাদর্শিক ব্যক্তি কী লিখেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রসঙ্গ তুলে ওয়াইসি বলেন, হেডগেওয়ার শুরুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ধারণার তিনি বিরোধী ছিলেন। আরএসএস প্রকাশিত হেডগেওয়ারের জীবনী উদ্ধৃত করে ওয়াইসি দাবি করেন, হেডগেওয়ার ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্য’ স্লোগানের সঙ্গেও একমত ছিলেন না।

আরএসএসের অন্যতম প্রধান মতাদর্শিক নেতা এম এস গোলওয়ালকরের ১৯৪০ সালের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন ওয়াইসি। তাঁর দাবি, গোলওয়ালকর আরএসএসকে ‘এক পতাকা, এক নেতা ও এক মতাদর্শ’-এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। ওয়াইসি বলেন, এই বক্তব্য আরএসএসের গণতন্ত্র সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ ছাড়া ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে আরএসএসের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, ওই সময়ে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ওয়াইসি দাবি করেন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় নারীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার মতো ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, গোলওয়ালকরের ‘বাঞ্চ অব থটস’ বইয়ে ‘অভ্যন্তরীণ হুমকি’ নামে একটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে ভারতীয় মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ‘অভ্যন্তরীণ হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওয়াইসির ভাষ্য অনুযায়ী, গোলওয়ালকর মুসলমান নাগরিকদের প্রতি স্থায়ী সন্দেহের দৃষ্টিভঙ্গি রাখার কথাও বলেছিলেন। এসব বক্তব্যের আলোকে আরএসএসের বর্তমান অবস্থান ও মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন এআইএমআইএম প্রধান। সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ