বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন জালিয়াতি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যারা পরীক্ষার আগে রাজধানীর আটটি এলাকায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে যান এবং প্রার্থীদের তা মুখস্ত করান। এরপর ওই পরীক্ষার্থীরা যান পরীক্ষা কেন্দ্রে।

গত শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবির) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. মোক্তারুজ্জামান রয়েল (২৬), মো. শামসুল হক শ্যামল (৩৪), জানে আলম মিলন (৩০), মোস্তাফিজুর রহমান মিলন (৩৮) ও রাইসুল ইসলাম স্বপন (৩৬)।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বাড্ডা, বসুন্ধরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, কল্যানপর, রূপনগর, মিরপুর, মাতুয়াইল, শেওড়াপাড়া, শেরেবাংলা নগর, পল্লবী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো প্রার্থীদের। পরীক্ষার ৫ থেকে ৬ ঘন্টা আগে তাদের প্রশ্ন দিয়ে উত্তরপত্র মুখস্থ করানো হতো।

এরআগে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গোয়েন্দারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পান। তাদের ধরার জন্য শুরু হয় অভিযান। এ নিয়ে বুধবার সমকালের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয় একটি প্রতিবেদন।

সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল গত ৬ নভেম্বর। ওই পাঁচ ব্যাংকে এক হাজার ৫১১টি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় এক লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল সেদিন।

ওইদিনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই দাবি করেন, আগেই প্রশ্নপত্র কারও কারও কাছে ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের কেউ কেউ পোস্ট দিয়ে এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য ছিল- প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার যে দাবি করেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবার পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার দায়দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মাধ্যমে সম্পাদন করে। আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আইসিটি টেকনিশিয়ান (হার্ডওয়্যার অ্যান্ড সফটওয়্যার) মো. মোক্তারুজ্জামান তার প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েক সহযোগী ছিল। মোক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার জানে আলম মিলন রূপালী ব্যাংকের সাভারের নবীনগর শাখায় কর্মরত। তার সঙ্গে জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখায় অফিসার পদে কর্মরত শামছুল হক শ্যামলও গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ