বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


নির্বাচনী সহিংসতায় ৪১ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১১টায় গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রউফকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও রাজবাড়ীর বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এবারের ইউপি নির্বাচনে শুক্রবার পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিতে নিহত হয়েছে ২০ জন। এর মধ্যে নরসিংদীতে ৯ জন, কক্সবাজারে পাঁচজন এবং একজন করে নিহত হয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, পাবনার সুজানগর, কুমিল্লার মেঘনা, ভোলার চরফ্যাশন ও রাজবাড়ীতে। তাদের মধ্যে কুমিল্লা ও কক্সবাজারে দুজন পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোটের পরও সহিংসতা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার অন্তত ১৫ জেলায় পাঁচজন মারা গেছেন। এছাড়া যশোরের শার্শা উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত এক ব্যক্তি গতকাল ভোরে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। এর আগে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৮ জন নিহত হন। আহতের সংখ্যা অন্তত ৫৮৭। আর প্রথম ধাপের দুই দফা নির্বাচনে ভোটের দিন ছয়জন, ভোটের পরে একজন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪১।

গত দুই সপ্তাহে নরসিংদীর রায়পুরা ও সদর উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৯ জন নিহত হয়েছে। ৯ জনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান গণমাধ্যমকে বলেছেন, শুধু নির্বাচন নয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযানে চরাঞ্চল থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, পাইপগান, ওয়ানগান, টেঁটা উদ্ধার করেছি। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনের সময় কোনো লাইসেন্সধারী অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহার ও প্রদর্শন করা যাবে না বলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এটা নির্বাচনের আগে যথারীতি জনসাধারণকে অবহিতও করা হয়ে থাকে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর রুটিন কাজ। তারা করেও থাকে। তবু নির্বাচন চলাকালে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হবে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রউফকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী আব্দুর রউফ লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মাগুড়াকুটি গ্রামের মৃত ফজলু হকের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর হাইস্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে মোড়গ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বাণীবহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আসন্ন চতুর্থ ধাপে ২৩ ডিসেম্বর বাণীবহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি।

আব্দুল লতিফের স্ত্রী শেফালী বেগম জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাণীবহ বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন লতিফ। বাড়ির কাছে পৌঁছতেই দুর্বৃত্তরা তাকে থামিয়ে বুকসহ শরীরে চারটি গুলি করে। স্থানীয় লোকজন তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টাকালে মানিকগঞ্জে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি নির্বাচন-পরবর্তী হামলা-সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার কুল্লা, সুয়াপুর, সোমভাগ, সানোড়া ও চৌহাট ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কুল্লার বরাকৈ গ্রামের হাজী আব্দুর রশিদের ছেলে রিফাত রেজুয়ান রাতুল (৩০) এবং সুয়াপুরের কুরুঙ্গী গ্রামের নছুর উদ্দিন মোল্লা (৮৫)। রাতুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে গত ২৩ অক্টোবর নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আলী ফকির (৫২) গতকাল ভোরে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। তিনি পাঁচ ভূলাট গ্রামের মৃত ইউছুপ আলীর ছেলে।

পাবনার সুজানগরে ভায়না ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওমর ফারুকের নির্বাচনী কার্যালয়ে গত সোমবার রাতে নৌকার প্রার্থী আমিন উদ্দিনের সমর্থকরা হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালান। এতে ফারুকের কর্মী সবুজ হোসেন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর ধোপাখালী ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টুর প্রধান এজেন্ট মোতাহের হোসেনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রার্থী মিন্টু ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্র ও বোমা আছে— এ অভিযোগ তুলে অভিযানের সময় মোতাহের পালাতে গেলে পুলিশ তাকে ধরে টানাহেঁচড়া করে। এতে মোতাহেরের মৃত্যু হয়।

গত শনিবার রূপগঞ্জে গুলি করে হত্যা করা হয় মুড়াপাড়ার মাছিমপুর এলাকার মৃত আব্দুল জলিল মোল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ মোল্লাকে (৩৩)। ডান কানের নিচে শর্টগান ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মেহেরপুরে সোমবার পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মেম্বর প্রার্থী আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে তার কর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে বর্তমান সদস্য আজমাইন হোসেনের মামাতো ভাই জাহারুল (৫৭) ও সাহাদুলকে (৫৫)। এতে সংঘর্ষ বেধে গেলে বর্তমান সদস্য আজমাইন হোসেনসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর