বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
আমিরকে শোকজ করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বক্তব্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত জামি'আ ইকরায় উচ্চতর উলুমে হাদিস বিভাগের যাত্রা শুরু সংবিধান উপেক্ষা করে কাশ্মীরে মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ শুরু ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন: খেলাফত মজলিস ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির’ ভুল সংবাদের ভিত্তিতে ইসি শোকজ করেছে: মাওলানা মামুনুল হক এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ  ইসিতে শুনানির পঞ্চম দিনে আরও ৭৩ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর বিজিবিতে নিয়োগ পেয়ে যা বললেন ফেলানীর ছোট ভাই

‘বিএসএফের কাজ সীমান্ত পাহারা দেওয়া, হত্যা করা নয়’: মন্তব্যে অভিনেত্রীকে আইনি নোটিশ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানানোর পর অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ভারতের আইনজীবী পৃথ্বীশ দাস। তার অভিযোগ, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘ধর্ষক’, ‘খুনি’ এসব শব্দ ব্যবহার করেছেন অপর্ণা।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে গত ১৬ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে কলকাতার ১৮টি মানবাধিকার সংগঠন। বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) উদ্যোগে কলকাতা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অপর্ণাকে আইন নোটিশ পাঠানো ওই আইনজীবীর অভিযোগ, সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে অসম্মান করেছেন অপর্ণা সেন। সাত দিনের মধ্যে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

অপর্ণা সেন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মলয় সেনগুপ্ত, নাট্য পরিচালক সোহাগ সেন, আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্য, সিপিআইএমএল নেতা কার্তিক পাল প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে সীমান্তে যেসব মানুষকে বিএসএফ হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বলেন, বিএসএফের কাজ সীমান্ত পাহারা দেওয়া। সীমান্তের ভেতরে ঢুকে নিরীহ সীমান্তবাসীকে হত্যা করা নয়। এ সময় তারা বলেন, বিএসএফ যদি সীমান্তের হত্যালীলা বন্ধ না করে, তাহলে রাজ্যে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মাসুমের সম্পাদক কিরীটী রায় বলেন, আগে নজরদারি এলাকা ১৫ কিলোমিটার থাকলেও তা বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্ত এলাকায় মুসলিম এবং দলিত শ্রেণির মানুষের বাস বেশি। আর বিএসএফের শিকার হচ্ছে সেই সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অত্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে অপর্ণা সেন বলেন, সবার আগে বলা দরকার, ১৯৪৫ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার পিলার (আইবিপি) থেকে দেড় শ গজ দূরে থাকবে কাঁটাতারের বেড়া বা দেওয়াল। কিন্তু সেগুলো বাড়তে বাড়তে অনেক জায়গায় এরই মধ্যে ৬ কিলোমিটার, অনেক জায়গায় ১২ কিলোমিটার হয়ে গেছে।

বিএসএফের এখতিয়ার বৃদ্ধি পেলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অপর্ণা সেন বলেন, চোরাচালানের কথা বলা হলে, বর্ডার পিলার থেকে যদি কাঁটাতার এতটা দূরে থাকে তাহলে তো চোরাচালান চলবে। বিএসফের উচিত আইবিপি-র কাছাকাছি থাকা। তারা যদি ৫০ কিমি ভেতরে চলে আসে তাহলে ওদিকে কী হচ্ছে, তা কী করে আটকানো যাবে। মাথায় ঢুকছে না।

বিএসএফের ক্ষমতার পরিসর বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৩৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ৬০০ কিলোমিটারের মতো এলাকায় বেড়া নেই। ফলে অনুপ্রবেশের বিপদ বেশি। বিএসএফের ক্ষমতার পরিসর এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হবে। এই যুক্তি প্রসঙ্গে অপর্ণা সেন বলেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন, প্রতি বছর দেড় শ জন বিএসএফের গুলিতে মারা যাচ্ছে। বিচার হচ্ছে না। বলা হচ্ছে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হয়। এমনটা হলে তাহলে দুই পক্ষের হতাহতের আশঙ্কা থাকে। মৃতদের অনেকেরই পিঠে গুলি লেগেছে।

তিনি বলেন, বছর দু-তিন আগে ছিটমহলে মানুষের দুর্দশা দেখে এসেছি। সবচেয়ে আগে, সেখানকার মানুষের প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া দরকার। প্রান্তিক মানুষদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বক্তারা ফেলানী হত্যাসহ সীমান্তে বহু হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ