সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি

বাংলাদেশে শিয়া মতবাদ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।আবুল ফাতাহ কাসেমী।।

বাংলাদেশে শিয়া ফেতনা বর্তমানে বাংলাদেশসহ এ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম হলেও শিয়া মতাবলম্বীদের বসবাস রয়েছে। শিয়ারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে রয়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২% শিয়া। অধিকাংশ বাংলাদেশি শিয়ারা বিহারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। দাউদী বোহরা সম্প্রদায়ের শিয়াদের মূলত চট্টগ্রামে এবং নিজারি ইসমাইলি সম্প্রদায়ের শিয়াদের মূলত ঢাকায় পাওয়া যায়। ঢাকার বকশীবাজারের হোসেনী দালান হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম শিয়া মসজিদ এবং প্রধান। আজিমপুরের মতো জায়গায় অসংখ্য ইমামবাড়া ও শিয়া মসজিদ রয়েছে। আশারিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। কুলাউড়া ও রাজটিলার মতো স্থানে এবং সিলেটের বিখ্যাত পৃথিমপাশা পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্ক রয়েছে, যারা নিজেরাও শিয়া ছিল। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ভেলাই চোকদারের শিয়া জোড়া মসজিদ রয়েছে। [ই-উকিপিডিয়া]

বাংলাদেশে শিয়াদের কার্যক্রম ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বর্তমান। শিয়া মতাদর্শের মাত্র ১০ লক্ষ মানুষের বসবাস করে। কিন্তু শিয়াদের রুসম-রেওয়াজ ও বিশ্বাসের প্রভাব দেশের বিপুল সংখ্যক সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ক্রিয়মাণ। খ্রিষ্ট অষ্টম শতাব্দীতে ভারতবর্ষে ইসলামের আগমন ও প্রচার ঘটলেও শিয়া মতবাদের প্রচার ও বিস্তার ঘটে সতের শতকের প্রথম ভাগে। পারস্যের বণিক ও ভ্রমণকারীরা এ মতবাদ প্রচার করে।

বাংলার মুঘল শাসক শাহ সুজা সুন্নি হলেও শিয়া ধর্মের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার মা মমতাজ বেগম ছিলেন শিয়া মতাবলম্বী। তার দরবারের অনেক আমির ছিলেন পারস্যের এবং শিয়া মতানুসারী। আঠারো শতকের প্রথমভাগের অধিকাংশ নবাবই ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলার মুসলিম সমাজে শিয়া সম্প্রদায়ের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছিল।

শিয়া মতবাদ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই আমাদের দেশের দাওয়াহ বিভাগগুলোর কাছে। জানা মতে, দেশের কোন দাওয়াহ বিভাগে শিয়া মতবাদ নিয়ে আলাদা গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রম চালু নেই।

ইসলামি ইতিহাসের এক কলংকময় অধ্যায় তৈরি করেছে এ শিয়া সম্প্রদায় । তাদের মাধ্যমে পৃথিবীর মুসলিমরা শিয়া সুন্নি নামে দু'ভাগে ভাগ হয়ে যায়। প্রকৃত ইসলামের সাথে তাদের যোজন যোজন দূরত্ব থাকলেও না জেনে অনেকেই তাদেরকে মুসলিম মনে করে থাকেন। শিয়া মতবাদের এ ধারা হাজার বছর যাবৎ মুসলিমদের মাঝে ভ্রান্ত আকিদার বীজ বোপন করে চলেছে। ঈমান বিধ্বংসী এ সম্প্রদায়ের অপয়া তাপ বিশ্বাসী মুসলিমরা আর কতকাল সয়ে যাবেন তাই দেখার বিষয় এখন।

লেখক: অনুবাদক ও শিক্ষক জামিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া, রামপুরা, ঢাকা

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ