শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে আলোচনায় বসবে না তেহরান, ইরানের বার্তা দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী শোনো হে নবীন! তোমাকেই বলছি ... প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমের তালিকায় দ্বিতীয় মুফতি তাকী উসমানী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, সংসদে বিল পাস এলএনজি-এলপিজি নিয়ে দেশের পথে ৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে ফি-গ্রহণ বন্ধের তাগাদা ট্রাম্পের ‘কওমিতে একাধিক কিতাব দরসভুক্ত করা ছাড়া সিরাতের ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়’ হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নির্ধারণ করল ইরান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ঝুঁকির মুখে যুদ্ধবিরতি, বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদে

সাইয়্যিদা ফাতিমা রা. এর নেকলেস: হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া একটি গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম।। একদিন এক বৃদ্ধ আমাদের প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে এলেন। বৃদ্ধ লোকটি রাসুল সা. কে বললেন তিনি অনেক দূর থেকে এসেছেন। তার কাছে খাবার কাপড় কোনোটাই নেই। দুর্ভাগ্যবশত সেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাকে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সাইয়িদা ফাতিমার বাড়িতে যেতে বললেন।

এদিকে তিন দিন হয়ে গেছে ফাতিমা রা. ও তার পরিবারের কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। বৃদ্ধ যখন দরজায় নক করলেন ফাতেমা রা. বৃদ্ধকে শুধুমাত্র একটি চামড়ার টুকরো দিলেন। এ চামড়ার টুকরোটা দিয়ে ফাতেমা রা. হাসান হুসাইন রা. কে ঢেকে রাখতেন। বৃদ্ধ চামড়ার টুকরোটা নিতে চাইলো না। তিনি বললেন এ চামড়া তার ক্ষুধা নিবারণ করবে না। তাই ফাতিমা রা. কোনো চিন্তা না করেই তার গলার হারটি খুলে তাকে দিলেন। বললেন এটি তার সমস্যার সমাধান করবে।

বৃদ্ধ লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে এসে বললেন ফাতিমা রা. তাকে তার নেকলেস দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় কন্যার উদারতা দেখে কেঁদে ফেললেন।

আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. এসব ঘটনা দেখছিলেন। তিনি সাথে সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নেকলেসটি কেনার অনুমতি চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কেনার অনুমতি দিলেন। বললেন, যে এ নেকলেস কিনবে সে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে।

আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. বৃদ্ধের কাছে দাম জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমার জন্য খাবারের ব্যবস্থা ও পরার ব্যবস্থা করে দিবেন। আর নামাজ পরার কাপড় পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য অর্থ প্রয়োজন। আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. বৃদ্ধকে সব দিলেন যা যা তিনি চাইলেন। তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ঘোড়াও দিলেন।

বৃদ্ধ খুশিতে ভরে উঠলেন। তিনি হাত তুলে সাইয়্যিদা ফাতিমার জন্য দোয়া করলেন। যিনি তাকে তার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করেছিলেন আল্লাহ যেনো তাকে উত্তম প্রতিদান দেন।

আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. পরে নেকলেসটি একজন ক্রীতদাস ছেলের হাতে তুলে দেন। তাকে বলেন, নেকলেসটি ও ক্রীতদাস নিজে উভয়ই রাসুলুল্লাহকে উপহার হিসেবে দিতে।

যাইহোক, রাসুলুল্লাহ সা. তাকে সাইয়্যেদা ফাতিমার ঘরে যেতে বললেন। ফাতিমা রা. গলার মালা নিয়ে ছেলেটিকে মুক্ত করে দিলেন। ছেলেটি খুব আনন্দ অনুভব করে।

ছেলেটি বলে, নেকলেসটির মধ্যে থাকা কল্যাণের প্রাচুর্য দেখে মুগ্ধ বেশ মুগ্ধ সে। এটি একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ায়, একজন বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেয়, একজন দরিদ্র মানুষকে সন্তুষ্ট করে আর একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করে আবার তার নিজের মালিকের কাছে ফিরে আসে।

ঘটনাটি জাবির বিন আবদুল্লাহ আল আনসারী বর্ণনা করেছেন।

এভাউট ইসলাম থেকে আবদুল্লাহ তামিমের অনুবাদ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ