মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

খুলনায় সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাস-চিনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

এম শাহরিয়ার তাজ
খুলনা প্রতিনিধি

সরকার নির্ধারিত দামে খুলনায় এলপিজি গ্যাস ও চিনি বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন আগে সরকার এ দু’টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার কোন প্রভাব পড়েনি।

নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা আর ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা সাড়ে ১২শ’ টাকা থেকে ১৩শ’ টাকা। এ মূল্যে বিক্রির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন কোম্পানী রেট ১২২০ টাকা।

অথচ ২ এপ্রিল সরকার ভোক্তাপর্যায়ে ২৪৪ টাকা কমিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১১৭৮ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। আর ৫ এপ্রিল ৩ টাকা কমিয়ে চিনির কেজি ১০৪ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সরকারি ঘোষণায় বাজারে এর কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

দোলখোলা ইসলামপুর রোডের গ্যাসের পাইকারী ডিলার আনিস বলেন, সরকার ২৪৪ টাকা কমিয়ে গ্যাসের দাম ১১৭৮ টাকা নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু পাইকার হিসেবে কিনতে গেলে আমাদের ১২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দরে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে আমাদের বাড়িতে খালি হাতে ফিরে যেতে হবে। খুচরা পর্যায়ে গ্যাসের দাম কমাতে হলে কোম্পানীর মাধ্যমে দাম কমাতে হবে। না হলে সরকারের ঘোষণা ঘোষণার মাধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

লবনচরা এলাকার ব্যবসায়ী মারুফ বলেন, সরকার গ্যাসের দাম কমিয়ে মূল্য ঘোষণা করেছেন ঠিক। কিন্তু কোম্পানী আমাদের কাছ থেকে কম নিচ্ছেন না। বিভিন্ন কোম্পানীর গ্যাস আমাকে বিভিন্ন দামে নিতে হচ্ছে। কোম্পানী আমাদের সরকার নির্ধারিত দরে দিচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে আমাদের বেশী দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও গ্যাস কোম্পানীর মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। সমন্বয়হীনতার অভাবে সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

অপরদিকে ৫ এপ্রিল ৩ টাকা কমিয়ে চিনির দাম ১০৪ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু বাজারে তার কোন প্রভাব পড়েনি।

নগরের ইসলামপুর রোডের ব্যবসায়ী হক স্টোরের কর্ণধরের ছেলে দিদার বলেন, চিনির দাম কমেছে, কিন্তু খাতা কলমে এর দাম কমেনি। এখনও তাকে বাজার থেকে বর্ধিত দরে চিনি কিনতে হচ্ছে। বর্ধিত দরে কিনে তাকে ১১৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শহরের দিকে দাম ১১৫ থাকলেও অলিগলিতে এর দাম আরও ৫ টাকা বেশি। সেখানে এ পণ্যটি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ১২০ টাকায়।

নগরীর ময়লাপোতা সান্ধ্য বাজারের ক্রেতা আমিনুর বলেন, পেপার পত্রিকায় গত কয়েকদিন আগে দেখা গেছে, গ্যাস ও চিনির দাম কম। কিন্তু বাজারে কিনতে আসলে ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে বর্ধিত দরেই রাখে। ব্যবসায়ীরা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্ধিত দরে এ পণ্য দু’টি বিক্রি করছে।

ক্রেতা শামসুর রহমান বলেন, বাজরে এমন কোন পণ্য নেই, যার দাম কম আছে। একবার বাড়লে তা পাগলা ঘোড়ার মতো বাড়তে থাকে। আর কমার কোন লক্ষণ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের একটি তদারকি সংস্থা আছে, তাদের কাজ কি ? বাজার নিয়ন্ত্রণে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

-একে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ