চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের জন্য তাদের দুই পক্ষ পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। পরে দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দুপুরের দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় দক্ষিণ বাইপাস এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাউদ্দিনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
বিকেল পাঁচটার দিকে আসলাম চৌধুরী এলকে সিদ্দিক স্কয়ারে এসে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডে কোনো সন্ত্রাসীকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে রাখা যাবে না। যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কেন্দ্রে অভিযোগ জানাব।
এদিকে কাজী সালাউদ্দিন মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠান শুরু করার ঘোষণা দিই। কিন্তু চোরা ও গুপ্ত হামলা এবং আমার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে তারা অনুষ্ঠানে আসতে পারেনি।
কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য আমরা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।” হামলায় তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
সড়ক অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় তাৎক্ষণিক মিছিল করে। মিছিলে অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। ওই কারণে কিছু সময় গাড়ি চলাচল আটকে যায়। ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি।’
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির আসলাম অনুসারীদের অংশের সদস্য সচিব মো. মোরসালিন বলেন, ‘মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের অনুষ্ঠান ছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেটি বাতিল করে দেওয়ায় আমরা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা আসার সময় হামলা চালানো হয়।’ হামলায় তাদের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করেন মোরসালিন।
সীতাকুণ্ড থানার কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে এক পক্ষ গিয়ে বাঁশবাড়িয়া অবস্থান নিয়েছিল। আমরা তাদের সেখান থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি।’
আইও/