বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


জাগতিক জ্ঞানের পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাও জরুরি: শায়খে চরমোনাই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধুনিক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, কুরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য নয়; ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের জন্য এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত। কুরআনের শিক্ষা মানুষের আদর্শিক, নৈতিক ও মানবিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের পথ দেখায়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআনুল কারিমের সবক প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মসূচি উপলক্ষে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কুরআনের সবক প্রদানকালে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমরা মুসলিম সমাজের মানুষ। আমাদের জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা অর্জন করতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আধুনিক শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় জ্ঞান অর্জন করলেও নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশাপাশি সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট, মাদকাসক্তি, অশ্লীলতা, সহিংসতা ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার মতো নানা সংকট দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কুরআনের বাণী সাধারণ ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়লে সেই শূন্যস্থান অন্য নানা চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনদর্শন দিয়ে পূরণ হতে পারে। ভোগবাদী ও নৈতিকতাবিচ্ছিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, জীবনাচরণ ও সামাজিক মূল্যবোধে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ইসলাম জ্ঞানচর্চার বিরোধী নয়; বরং কুরআন মানুষকে জ্ঞান অর্জন, চিন্তা-গবেষণা ও সত্যের অনুসন্ধানে উৎসাহিত করেছে। একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর আধুনিক ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা গ্রহণও জরুরি। জ্ঞান যখন নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা মানবকল্যাণের শক্তিতে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ হবে, চরিত্রে পরিচ্ছন্ন হবে, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় থাকবে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতন হবে। কুরআনের শিক্ষা সেই আদর্শ মানুষ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।’

বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও চরিত্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ক্যাম্পাসে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কুরআনের শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতের বার্তা। কুরআনের আলোয় আলোকিত তরুণ প্রজন্ম অন্যায়, দুর্নীতি, জুলুম ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে।

পরিশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন, এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ