শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭


আল-আজহার থেকে মাসুম বিল্লাহর এমফিল ডিগ্রি অর্জন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ বিন হাফিজ আজহারীর এমফিল থিসিস ডিসকাশন সেমিনার মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল,

«الروايات المرسلة التي استدل بها الإمام أبو حنيفة وأصحابه في المسائل الفقهية – جمعًا ودراسة»

‘যেসব মুরসাল রিওয়ায়াত দ্বারা ইমাম আবু হানিফা রহ. ও তাঁর ছাত্রগণ ফিকহি মাস‌আলায় দলিল প্রদান করেছেন সেগুলোর সংকলন ও নিরীক্ষণ।’

থিসিস ডিসকাশন সেমিনারে প্রধান পর্যালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ওয়াল আরাবিয়া (লিত-তুল্লাবিল ওয়াফিদিন)-এর উসুলুদ্দিন অনুষদের উলুমুল হাদিস বিভাগের অধ্যাপক এবং উক্ত অনুষদের প্রধান ড. খালেদ শাকের আতিয়াহ এবং ইসলামিক ও এরাবিক স্টাডিজ অনুষদের উলুমুল হাদিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ হাফিজ। থিসিসের প্রধান সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইসলামিক ও এরাবিক স্টাডিজ অনুষদের উলুমুল হাদিস বিভাগের অধ্যাপক ও উক্ত অনুষদের সাবেক সহকারী ডিন ড. সুবহি আব্দুল ফাত্তাহ রাবি।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় প্রশিক্ষণ পেলেন চার শতাধিক হজযাত্রী

দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে সেমিনারটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গভীর গবেষণা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও উপস্থাপনার মানে পর্যালোচকবৃন্দ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ড. খালেদ শাকের আতিয়াহ গবেষণাপত্রটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘গবেষণাকর্মটি খুবই মূল্যবান, উচ্চমানসম্পন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক জনাব মাসুম বিল্লাহ বাস্তবিক অর্থেই এই থিসিসের জন্য দুইটি মাস্টার্স ডিগ্রি পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কারণ, তার গবেষণার প্রথম দুই খণ্ড স্বতন্ত্রভাবে একটি মাস্টার্স থিসিসের মান পূরণ করে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডও পৃথকভাবে আরেকটি মাস্টার্স ডিগ্রির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়াও তিনি গবেষকের  চারিত্রিক উৎকর্ষ, নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায়, একাগ্রতা বিবেচনায় তাকে তৃতীয় আরেকটি মাস্টার্স ডিগ্রির যোগ্য বলেও মন্তব্য করেন। পরিশেষে সম্মানিত পর্যালোচক গবেষকের প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করে বলেন, তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে তার গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেছেন। তিনি মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন যেন আল্লাহ তা’আলা গবেষকের জীবনে ও কাজে বরকত দান করেন এবং তাকে উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করেন।;

এই অসাধারণ থিসিসের ফলাফল গোষণা করতে গিয়ে ড. সুবহি আব্দুল ফাত্তাহ রাবি বলেন, “গবেষণাপত্রটিতে গবেষক হাদিসসমূহের তাখরীজ (সূত্রনির্ণয় ও বিশ্লেষণ) বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় পরিশ্রম সাধন করেছেন।” এরপর অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গবেষক জনাব মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ বিন হাফিজ আযহারিকে সর্বোচ্চ ফলাফল মুমতাজ (Excellent) গ্রেডে উত্তীর্ণ ঘোষণা করেন।

গবেষক মাসুম বিল্লাহ একাধারে একজন লেখক, সম্পাদক, নিরীক্ষক ও ইসলামি তুরাস বিষয়ক পাণ্ডুলিপি গবেষক। একসময় কায়রোর প্রসিদ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মারকাজুল বাহসিল ইলমি ওয়া তাহকিকুত তুরাস’ এ গবেষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ‘মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি আমেরিকা’-এর ‘কায়রো শাখায়’ কাজ করেছেন দীর্ঘ দিন। আরব বিশ্বের ইলমুল মাখতুতাতের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘মাহাদুল মাখতুতাতিল আরাবিয়া, কায়রো’-এর সাথেও রয়েছে তার বিশেষ সম্পর্ক। সবমিলিয়ে ইসলামি তুরাস বিষয়ক গবেষণায় ধীরেধীরে তাঁর প্রসিদ্ধির প্রসার ঘটছে আরব ও আজমের জ্ঞানী মহলে। এর প্রমাণ মিলে তাঁর প্রকাশিত অসাধারণ গবেষণা ও রচনাসম্বলিত পুস্তকাদি থেকেই।

এ তরুণ গবেষকের অন্যতম কৃতিত্ব হলো, ছয়জন ইমাম (ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিজি, ইমাম নাসায়ি এবং ইমাম ইবনে মাজাহ)-এর সর্বসম্মতিক্রমে বর্ণিত হাদিসসমূহ ও তার বর্ণনাসূত্রের নিরীক্ষা এবং ব্যাখ্যাসহ একটি প্রামাণ্য সংকলন “আর-রওদাতুল বাহিয়্যাহ ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিল আইম্মাতুস সিত্তাহ”।  কায়রোর প্রসিদ্ধ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘দারুস সালিহ’ থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটি  মিশরের সালিহ জাফর মাসজিদে অবস্থিত মাদরাসাতুল হাদিসিয়্যাহসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। তাঁর আরেকটি সাড়াজাগানো গবেষণাগ্রন্থ  ‘মাজমুউ রসায়িল ফি ফাদায়িলি লাইলাতিন নিসফি মিন শাবান’। এ গ্ৰন্থে তিনি ইসলামি তুরাসের চারটি মূল্যবান রিসালার সংকলন করেছেন। দক্ষ হাতে আঞ্জাম দিয়েছেন কিতাবটির ‘তাহকিক, তাখরিজ ও তালিক’ এর কঠিনতম কাজগুলো। কায়রোর প্রসিদ্ধ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘দারুস সালিহ’ থেকে ২০২২ সালে কিতাবটি ছেপে এসেছে।‘ কায়রো আন্তর্জাতিক ব‌ইমেলা ২০২৩’ এ কিতাবটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। বাংলাদেশেও ‘মাকতাবাতুল আমজাদ’ কিতাবটি পরিবেশন করছে। তরুণ এ গবেষকের তাহকিককৃত শবে বরাত বিষয়ক গ্ৰন্থটি আরব বিশ্বের প্রথিতযশা আলিমদের প্রশংসা কুড়ানোর সাথে সাথে জায়গা করে নিয়েছে অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের হৃদয়ে‌ও। এই গ্রন্থও  মিশরের সালিহ জাফর মাসজিদে অবস্থিত মাদরাসাতুল হাদিসিয়্যাহ ও  মাযিয়াফাসহ (গ্রন্থপাঠদানের আসর) অনেক প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকাতায় এই কৃতি গবেষকের রচিত ও  তাহকিককৃত (গবেষণালবদ্ধ) আরও কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশের পথে রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, বিশুদ্ধ হাদিস থেকে উৎসারিত হানাফি মাযহাবের মাসআলাসমূহের আলোচনা সম্বলিত প্রামাণ্যগ্রন্থ আল্লামা মুহাদ্দিস দেহলবি রহ. রচিত ‘ফাতহুল মান্নান ফি ইসবাতি মাযহাবিন নুমান’, ও হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের এবং ধ্রুপদী গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘শারহুয যিয়াদাতি লিল ইমাম আল-আত্তাবি’ রচিত গ্রন্থের তাহকিক, এবং  জর্ডানের মাকতাবাতুল গানিম থেকে প্রকাশিত হচ্ছে, ‘শরুহু যিয়াদাতিয যিয়াদাত’। আর গবেষকের স্বরচিত প্রবন্ধমালার সংকলন ‘আল-মাকালাত’ নামে প্রকাশিত হচ্ছে কায়রোর প্রকাশনীসংস্থা ‘দারুস সালিহ’ থেকে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ