রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ।। ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :

‘লক্ষাধিক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। তারা এসব পদে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে চান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এর কোন কার্যকর উদ্যোগ এখনো পরিলক্ষিত না হলেও সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, তারা প্রাথমিকে ৫০-৬০ হাজার গানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতি বিষয়টি হলো জাতিভেদে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। কোন জাতির সংস্কৃতি কী হবে, সেটা আবহমানকাল থেকে সেই জাতির চর্চিত কৃষ্টি-কালচার, ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি ও আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করে। সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। এটি একটি জনপদের মানুষের আচার-আচরণ ও অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে ওঠে।

আবহমানকাল থেকেই ইসলামি সভ্যতা ও অনুভূতিকে ধারণ করেই এই জনপদের মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। সুতরাং এই জনপদের মানুষের সংস্কৃতি নির্ধারণ হবে তাদের অনুভূতি ও বোধ-বিশ্বাস অনুযায়ী। এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখা করে নব্বই ভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষের সন্তানেরা। তারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে ধারণ করে সবার উর্ধ্বে। যার ফলে নাচ-গানের শিক্ষার চেয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব এই সমাজের মানুষের কাছে অনস্বীকার্য।

সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে অবশ্যই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা সরকারের উচিত বলে আমরা মনে করি। কেউ যদি নির্দিষ্ট পরিসরে নাচ-গান করতে চায় তাহলে সেটা তার একান্ত বিষয়। কিন্তু সমাজের মুষ্টিমেয় একটা অংশের চিন্তা-চেতনা এবং চাওয়াকে পুরো প্রজন্মের উপর সংস্কৃতি হিসেবে চাপিয়ে দেয়াটা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না। ৫০-৬০ হাজার গানের শিক্ষক নয় বরং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে (প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক দীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে লক্ষাধিক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

অতএব, সরকার এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আগামী প্রজন্মের উন্নত চরিত্র ও নৈতিক মনন গঠনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করবে বলেই আমরা আশাবাদী।

লেখক: সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ