|| মুহাম্মাদ সাইফুদ্দীন গাজী ||
কওমি মাদরাসাকে পুরোপুরি অনাবাসিক করে ফেলার পক্ষে অনেকে মতামত দিচ্ছেন। নূরানী মকতব ও ইবতেদায়ি মারহালায় শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলেও এর উপরের স্তরগুলোতে তা এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বরং নানা কারণে এ প্রস্তাব আত্মঘাতী হতে পারে। এ মুহূর্তে দুটি দিক আলোচনা করছি।
প্রথমত, কওমি মাদরাসা পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে আবাসিকব্যবস্থার ওপর। এখানকার শিক্ষা সেবা ও তালিম-তরবিয়াতের সৌন্দর্য এই দারুল ইকামার কারণে। কওমি মাদরাসাগুলোতে এখনো সরকারি মাদরাসার মতো শিক্ষাদীক্ষায় অধঃপতন নেমে আসেনি, কারণ এটি এখানকার ছাত্ররা মাদরাসায় থেকে উসতাযের তত্ত্বাবধানে পড়ালেখা করে। আপনি ভালো করে খেয়াল করে দেখুন- যেসব আলিয়া মাদরাসায় ভালো পড়ালেখার জন্যে প্রসিদ্ধ, সেগুলোতে আবাসিক ব্যবস্থা জোরদার। এমনকি রেসিডেন্সিয়াল হাইস্কুলগুলো সাধারণ স্কুল থেকে ভালো ফলাফল করছে এই আবাসিকের কারণে। যদি ওরা ভালো পড়ালেখার জন্যে আমাদের ফলো করে আবাসিক করতে পারে, সেখানে আমরা আবাসিকব্যবস্থা ভেঙে পিছিয়ে পড়তে যাব কোন দুঃখে?
সমস্যা আবাসিকে নয়, সমস্যা তার ব্যবস্থাপনা ও নৈতিকতার দুর্বলতায়। একে জোরদার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, কওমি মাদরাসার সমস্ত আয়-ইনকাম এই আবাসিকের কারণে। এখানে সরকারী কোনো অনুদান এখানে নেই। কিন্তু এটি টিকে আছে সাধারণ মানুষের যাকাত ফিতরা ও দান-দক্ষীনায়। আর মানুষ এখানে এসব দান-অনুদান এখানে নিয়ে আসে- সরকারি মাদরাসায় নিয়ে যায় না- কারণ এখানে গরিব তালিবে ইলমরা বোর্ডিংয়ে থেকে পড়ালেখা করে। এই আয় দিয়ে শিক্ষক বেতন, গরীব ছাত্রদের খাবার দাবার, পড়ালেখা, আবাসন, আবাসিক ভবন নির্মাণসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহ করা হয়ে থাকে।
যদি বিকল্প ব্যবস্থা আগে মাদরাসাগুলোকে অনাবাসিক করে দেওয়া হয়, আর সেখানে গরীব ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, তা হলে মানুষের দানঅনুদান আসা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে হাজার হাজার দুর্গত ও দূরাগত গরিব ছাত্রের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। পুরো মাদরাসাশিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়বে, যেখানে এখনো অর্থের অভাবে উসতাযদের মানসম্পন্ন বেতন দেওয়া সম্ভব হয় না। আলিয়া মাদরাসা সমাজিক দান ছাড়াই তো সরকারী অনুদানে টিকে আছে, কওমি মাদরাসা তখন কিভাবে টিকে থাকবে?
অনাবাসিক করে ফেলার মধ্যে আরও অনেক ক্ষতি আছে, যা পরে কখনো বলব ইনশাআল্লাহ।
লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, চিন্তক ও লেখক-অনুবাদক
এসএইচ/